কামদুনিকে ছোট ঘটনা বলা হবে না’, নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা শুভেন্দুর
শনিবার বারুইপুর সফরে গিয়ে তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন কামদুনি মামলায় নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়াবে রাজ্য সরকার
Truth of Bengal: বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই কামদুনি মামলা নিয়ে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বারুইপুর সফরে গিয়ে তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন কামদুনি মামলায় নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়াবে রাজ্য সরকার। পরিবারের আইনি লড়াইয়ে আইনজীবী দিয়ে সহযোগিতা করা হবে। রাজ্যের আইনজীবীরাও এই মামলায় তাঁদের বিরোধিতা করবেন না বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। এদিন সূর্যপুরে নবনির্মিত পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে তিনি নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পাশাপাশি গণপিটুনিতে নিহত নির্দোষ যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতেও যান। ইন্দ্রজিতের দাদার হাতে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেয় রাজ্য সরকার।
এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নারী নির্যাতনের ঘটনায় সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ফের তুলে ধরেন শুভেন্দু। সেই প্রসঙ্গেই উঠে আসে কামদুনি মামলা। তিনি বলেন, “বারাসত আদালতের রায় কলকাতা হাই কোর্ট খারিজ করে দিয়েছিল। সেই মামলা এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। এতদিন রাজ্য সরকার নির্যাতিতার পরিবারের অবস্থানের বিরোধিতা করেছিল। বর্তমান সরকার তাঁদের আইনজীবী দিয়ে সাহায্য করবে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, কামদুনির ঘটনাকে কোনওভাবেই লঘু করে দেখা হবে না। আগের সরকারের আমলের মতো একে ‘ছোট ঘটনা’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে না। নির্যাতিতার পরিবার যাতে সর্বোচ্চ আদালতে ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যেতে পারে, সেই ব্যবস্থাই করবে সরকার।২০১৩ সালে উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনিতে ২০ বছরের এক কলেজছাত্রীকে অপহরণের পর গণধর্ষণ এবং নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনা গোটা রাজ্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কামদুনির বাসিন্দারা পথে নেমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন।
ঘটনার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কামদুনিতে গেলে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। অভিযোগ, প্রতিবাদীদের মধ্যে মাওবাদী থাকতে পারেন বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ টুম্পা কয়াল ও মৌসুমি কয়াল পরবর্তী সময়ে শাসকদলের বিরোধিতার মুখে পড়েছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৬ সালে নিম্ন আদালত মামলার তিন অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। পরে কলকাতা হাই কোর্ট সেই রায়ে পরিবর্তন আনে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা মকুব করা হয়। দু’জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকলেও তিন অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করে আদালত। বিচার চলাকালীন এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল। হাই কোর্টের রায়ের পর তদন্তের মান এবং আদালতে রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কামদুনির প্রতিবাদীরা। তাঁদের অভিযোগ, তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথাযথভাবে আদালতে পেশ করা হয়নি। ন্যায়বিচার না পাওয়ার দাবি তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় নির্যাতিতার পরিবার।






