পর্ণশ্রীতে গ্রেফতার ‘মমতাপন্থী’ তৃণমূল নেতা অঞ্জন দাস
ধৃত অঞ্জন দাস নিজে যেমন একসময় তৃণমূলের কাউন্সিলর ছিলেন, তেমনই তাঁর স্ত্রী সংহিতা দাস কলকাতা পুরসভার ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং ১৪ নম্বর বরো চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব সামলেছেন।
Truth of Bengal: কলকাতার পর্ণশ্রীতে এক প্রভাবশালী মমতাপন্থী তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সংহিতা দাসের স্বামী অঞ্জন দাসকে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা এবং শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি মূলত ২০২০ সালের একটি পুরনো মামলার ওপর ভিত্তি করে হলেও, সম্প্রতি নতুন আইনি মোড় নেওয়ায় পুলিশ এই কড়া পদক্ষেপ করেছে। ধৃত অঞ্জন দাস নিজে যেমন একসময় তৃণমূলের কাউন্সিলর ছিলেন, তেমনই তাঁর স্ত্রী সংহিতা দাস কলকাতা পুরসভার ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং ১৪ নম্বর বরো চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব সামলেছেন। রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের জেরে পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ায় তাঁরা পদ হারালেও, দলের চরম দুঃসময়েও তাঁরা কালীঘাট শিবিরের প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা সুশান্ত ঘোষের অভিযোগের ভিত্তিতে অঞ্জন দাস-সহ বিপ্লব ঘটক, ভোলা সরকার, সন্তু দাস, উৎপল দে, চিত্তরঞ্জন দাস এবং মৃত্যুঞ্জয় দাসের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে বাধা দেওয়া, বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা এবং ভয় দেখানোর অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছিল। ২০২১ সালে পুলিশ এই মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট আলিপুর আদালতে জমা দিলেও, গত ৩১ মে অভিযোগকারীর স্ত্রী পর্ণশ্রী থানায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের করেন এবং আদালতে পুনর্তদন্তের আবেদন জানান। এরপর সাব-ইন্সপেক্টর কুণাল বরাইককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৮৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী অভিযোগকারী ও তাঁর স্ত্রীর গোপন জবানবন্দি নথিভুক্ত করার পরই এই পুরনো মামলায় শ্লীলতাহানি এবং খুনের চেষ্টার নতুন ধারা যুক্ত করা হয়, যার জেরে অঞ্জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
রাজনৈতিক মহলে অঞ্জন দাসের এই গ্রেফতারি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, অঞ্জন দাস ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ১৪ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান ছিলেন এবং তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পার্থ চট্টোপাধ্যায় বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে যে পাঁচ বার তৃণমূলের টিকিটে বিধানসভা ভোটে লড়েছেন, প্রতি বারই তাঁর মুখ্য নির্বাচনী এজেন্টের গুরুদায়িত্ব সামলেছেন এই অঞ্জন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পর যখন অনেক নেতাই কালীঘাট শিবিরের হাত ছেড়ে অন্যত্র যোগ দিচ্ছেন, তখনও অঞ্জন দাস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অনুগত ছিলেন। এমনকি কিছুদিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট থেকে হাজরা পর্যন্ত মিছিলেও অঞ্জনকে সক্রিয়ভাবে হাঁটতে দেখা গিয়েছিল।





