Truth of Bengal: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মদিন উপলক্ষে কলকাতায় সংক্ষিপ্ত সফরে এসে এক বিরাট চমক দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার বিকেলে তিনি হঠাৎ করেই হাজির হন ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে। তাঁর এই আকস্মিক সফরে সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং বিজেপি নেত্রী তথা অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অতর্কিত আগমনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ হিসেবে পরিচিত প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় কি তবে এবার পদ্মশিবিরে যোগ দেওয়ার দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন, সেই প্রশ্নই এখন সর্বত্র ঘুরপাক খাচ্ছে। অবশ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রসেনজিতের বাড়িতে যাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়; এর আগেও নির্বাচনের আবহে সুকান্ত মজুমদার এবং শমীক ভট্টাচার্যের মতো প্রথম সারির বিজেপি নেতারা অভিনেতার বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে দীর্ঘক্ষণ কথা বলে এসেছিলেন।
ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে উল্লেখ্য যে, এটাই প্রথমবার নয়; ইতিপূর্বেও নির্বাচনের আবহে সুকান্ত মজুমদার ও শমীক ভট্টাচার্যের মতো শীর্ষ বিজেপি নেতারা প্রসেনজিতের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসেছেন, তবে এ বছর তিনি ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান পাওয়ার পর থেকে গেরুয়া শিবিরের নেতাদের সঙ্গে তাঁর এই যোগাযোগ যেন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ঘনঘন যাতায়াতের কারণেই মূলত রাজনীতিতে অভিনেতার আনুষ্ঠানিক আগমন এবং এমনকি লোকসভা নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন ও ফিসফাস শুরু হয়েছিল, যদিও অভিনেতা এবং বিজেপি নেতা—উভয় পক্ষই বরাবর এটিকে স্রেফ সৌজন্য সাক্ষাৎ বলেই দাবি করে এসেছেন।
তবে এবার স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তাঁর ড্রয়িংরুমে সশরীরে হাজির হওয়াকে সমস্ত মহলই একটি অত্যন্ত বড়সড় এবং তাৎপর্যপূর্ণ চমক হিসেবে দেখছে, যার সঙ্গে রাজনৈতিক যোগসূত্র খোঁজা হচ্ছে। বিশেষত, সোমবারই রাজ্যসভার তিনটি শূন্য আসনের জন্য নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়েছে—যে আসনগুলি তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের পদত্যাগের ফলে খালি হয়েছিল, আর ঠিক সেই দিনেই এই হেভিওয়েট সাক্ষাৎ স্বাভাবিকভাবেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।






