কলকাতাবিনোদন

রাজনীতির নতুন ইনিংস? নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক প্রসেনজিতের

ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের ধারণা, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে এবার দিল্লিতে রাজ্যসভায় পাঠাতে পারে গেরুয়া শিবির।

Truth of Bengal: সোমবার বিকেলে বালিগঞ্জে ‘পদ্মশ্রী’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে এক হাইপ্রোফাইল বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আকস্মিক সফরে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’র সঙ্গে শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্বের এই মিনিট পনেরোর শাহী সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহল এবং সিনেদুনিয়ায় তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে সেই জল্পনার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র তিন দিনের মাথায় ফের নবান্নে হাজির হলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর এই রাজকীয় বৈঠককে ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে প্রশ্নের পাহাড় জমেছে।

ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের ধারণা, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে এবার দিল্লিতে রাজ্যসভায় পাঠাতে পারে গেরুয়া শিবির। কাকতালীয়ভাবে, সোমবারই পশ্চিমবঙ্গের তিনটি শূন্য রাজ্যসভা আসনে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের ডেরেক ও’ব্রায়েন, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের পদত্যাগের পর খালি হওয়া এই তিন আসনে আগামী ২৪ জুলাই ভোটগ্রহণ হতে চলেছে। রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সংখ্যাতত্ত্বের নিরিখে এই তিনটি আসনই এবার বিজেপির ঝুলিতে যাওয়া নিশ্চিত। আর এই সমীকরণ সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে, বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রসেনজিতের এই ঘন ঘন সাক্ষাৎ কি সত্যিই কেবল ‘সৌজন্যমূলক’, নাকি নেপথ্যে রয়েছে রাজ্যসভার টিকিট পাওয়ার অঙ্ক? একই দিনে নবান্নে শতাব্দী রায় ও ইউসুফ পাঠানদের উপস্থিতিও এই জল্পনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

অবশ্য প্রসেনজিতের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের এই ঘনিষ্ঠতা নতুন কিছু নয়। এর আগেও ভোটের আবহে সুকান্ত মজুমদার কিংবা শমীক ভট্টাচার্যের মতো প্রথম সারির বিজেপি নেতারা অভিনেতার বাড়িতে গিয়ে দেখা করে এসেছেন। চলতি বছরে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান পাওয়ার পর থেকে তাঁর সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের সংযোগ আরও নিবিড় হয়েছে। যদিও প্রতিবারই অভিনেতা এবং রাজনৈতিক নেতা— দু’পক্ষেরই দাবি ছিল, এই সমস্ত সাক্ষাৎ একেবারেই অরাজনৈতিক এবং সৌজন্যমূলক। তবে সাধারণ সৌজন্যের গণ্ডি পেরিয়ে স্বয়ং দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তাঁর ড্রয়িংরুমে পা রাখা এবং তার ঠিক পরেই অভিনেতার নবান্ন সফরকে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ এবং বড় কোনো রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পূর্বাভাস বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।

Related Articles