দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উত্তরপাড়ায় কাউন্সিলরদের নামে পড়ল পোস্টার
শনিবার সকালে উত্তরপাড়া রেলস্টেশন টিকিট কাউন্টার সংলগ্ন এলাকা, কাঁঠালবাগান বাজার এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থানে এই পোস্টার নজরে আসে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
Truth of Bengal: রাকেশ চক্রবর্তী, হুগলি: হুগলির উত্তরপাড়ায় বেনামী পোস্টারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। উত্তরপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ একাধিক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার পড়েছে। শনিবার সকালে উত্তরপাড়া রেলস্টেশন টিকিট কাউন্টার সংলগ্ন এলাকা, কাঁঠালবাগান বাজার এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থানে এই পোস্টার নজরে আসে স্থানীয় বাসিন্দাদের। পোস্টারে বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে, ‘হিসাব চাই, বিচার চাই’। পাশাপাশি জঙ্গলমহলে একসময় মাওবাদীদের ‘গণ আদালত’-এর পোস্টারের আদলে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে একাধিক জনপ্রতিনিধির ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
পোস্টারে অভিযুক্তদের দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ‘একশো কোটির উপরে’ শিরোনামের তালিকায় উত্তরপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ যাদব, কাউন্সিলর সুব্রত মুখার্জি এবং টুকাই নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে ‘একশো কোটির নীচে’ বিভাগে রয়েছে ছোট পিন্টু, অর্ণব রায় এবং কাউন্সিলর মৌসুমি বিশ্বাসের নাম। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের আগেই এভাবে পোস্টার লাগিয়ে প্রচার চালানো কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে উত্তরপাড়া পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুব্রত মুখার্জি বলেন, উত্তরপাড়ার মানুষ এই ধরনের পোস্টার রাজনীতি পছন্দ করেন না। আমার সম্পত্তি নিয়ে লুকানোর কিছু নেই। প্রয়োজনে ইডি বা আয়কর দপ্তর তদন্ত করতে পারে।
উল্লেখ্য, পোস্টারে কারও নাম বা কোনও সংগঠনের পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। ফলে কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, কয়েকদিন আগেই কাউন্সিলর মৌসুমি বিশ্বাসের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে উত্তরপাড়ার এক ইউটিউবার ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সেই মৌসুমি বিশ্বাসের ছবিও পোস্টারে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর নামের পাশে ‘সর্বজনীন গ্রহীতা’ ও ‘বেনামী সম্পত্তি’ সংক্রান্ত মন্তব্য লেখা রয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়লেও প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বেনামী পোস্টারের নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তি কী, তা নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।






