পুলিশে নতুন নিয়োগ ২০ হাজার, ঘুষ নিলেই ফোনে অভিযোগ, বিধানসভায় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
“আগের সরকার বাজেট গিলোটিনে পাঠাত!”, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে পুলিশ দফতর নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন শুভেন্দু
Truth of Bengal: তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় রাজ্য পুলিশের কোনও প্রকৃত উন্নয়ন তো হয়ইনি, উল্টে তৈরি করা হয়েছিল হাজারও ফাঁকফোকর। বুধবার রাজ্য বিধানসভায় দাঁড়িয়ে পুলিশ বাজেটের জবাবি ভাষণে এই চরম অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর এখন থেকে পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ আধুনিক ও ‘স্মার্ট’ করে তোলাই নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য পূরণে পুলিশে কর্মী সংকট মেটাতে একলপ্তে ২০ হাজার নতুন কনস্টেবল নিয়োগের মহা-ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি দুর্নীতিগ্রস্ত ও ‘ঘুষখোর’ পুলিশকর্মীদের রুখতে একটি বিশেষ ডেডিকেটেড কন্ট্রোলরুম খোলার কথাও জানান তিনি।
তৃণমূলের বিগত শাসনকালকে তীব্র আক্রমণ করে শুভেন্দু দাবি করেন, “আগের শাসকদল সাধারণ মানুষ বা বিরোধী শিবিরের মতামত দেওয়ার সামান্যতম সুযোগ পর্যন্ত দেয়নি। বিগত ১৩ বছর ধরে স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে রাজ্যবাসীকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, আগের সরকার তড়িঘড়ি বাজেট গিলোটিনে পাঠিয়ে দিত এবং দেশে নতুন কার্যকর হওয়া ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ পর্যন্ত মেনে চলেনি। পুলিশ দফতরকে কার্যতঃ যতটা নিচে নামানো সম্ভব ছিল, ততটাই নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল।”
রাজ্যে পুলিশ নিয়োগ ও পরিকাঠামো প্রসঙ্গে শুভেন্দু আরও বলেন, “বছরের পর বছর রাজ্য পুলিশে স্থায়ী কোনও নিয়োগ করা হয়নি। কারণ, স্থায়ী পদে নিযুক্ত আধিকারিকরা রাজনৈতিক প্রভুদের সব অবৈধ কথা শুনে চলবেন না। তাই কোনো যোগ্যতা বা সঠিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই হাজার হাজার সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ করা হয়েছিল। শুধুমাত্র রাজনৈতিক আনুগত্য বজায় রাখা আর তোলা তোলার কাজেই তাদের প্রধানত ব্যবহার করা হয়েছিল।”
বর্তমানে রাজ্য পুলিশে প্রায় ৪৩ হাজার ৭৩টি পদ খালি রয়েছে। সেই শূন্যপদ পূরণ করতেই এবার তড়িৎ গতিতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, আসন্ন দুর্গাপূজোর আগেই প্রশিক্ষণ শেষে প্রায় ১৬ হাজার নতুন কনস্টেবল সরাসরি রাস্তায় নেমে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ শুরু করবে। সবমিলিয়ে ধাপে ধাপে মোট ২০ হাজার পুলিশকর্মী নিয়োগ করা হবে। এছাড়া কেবল পুলিশ নিয়োগই নয়, বিভিন্ন থানায় বারাক নির্মাণ, পুলিশকর্মীদের উন্নত রান্নাঘর, বকেয়া ডিএ, সঠিক পে কমিশন এবং স্বচ্ছ বদলি নীতি কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।





