দেশ

সংসদ চত্বরে গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে একাকী আন্দোলন! ‘গদ্দার’দের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন কল্যাণ

সেই সাসপেনশনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সংসদ ভবন চত্বরে এককভাবে বিক্ষোভে শামিল হন তিনি।

Truth of Bengal: সংসদে কুরুচিকর মন্তব্য, অন্যান্য সাংসদদের অপমান এবং নারীবিদ্বেষী আচরণের অভিযোগে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। সেই সাসপেনশনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সংসদ ভবন চত্বরে এককভাবে বিক্ষোভে শামিল হন তিনি। তাঁর ক্ষোভের মূল লক্ষ্য ছিল তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসা বিদ্রোহী শিবিরের এনসিপিআই (NCPI) সাংসদরা। নিজের আগের ঘোষণা মতোই সাসপেন্ড হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন সংসদের বাইরে ধর্নায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কল্যাণ। সেই অনুযায়ী এদিন গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে মকর দ্বারের সামনে এসে তীব্র সুর চড়ান তিনি। তাঁর ব্যানারে লেখা ছিল— “ভাজপা কে সাথ ২০ গদ্দার” (বিজেপির সঙ্গে ২০ জন বিশ্বাঘাতক)। কখনও সংসদের প্রবেশদ্বারে, আবার কখনও সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে লাগাতার স্লোগান দিতে থাকেন এই জ্যেষ্ঠ সাংসদ।

সংসদ চত্বরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাকী সোচ্চার হতে দেখে তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী)-র সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্ত। তিনি কল্যাণকে উদ্দেশ্য করে রসিকতার সুরে বলেন, “দাদা ২০ জন নয়, বলুন ২৬ জন গদ্দার।” শিবসেনার নিজস্ব ৬ জন সাংসদও যে দলত্যাগ করেছেন, সে কথাই শ্রীরামপুরের সাংসদকে মনে করিয়ে দেন সাওয়ান্ত। এরপর দীর্ঘক্ষণ দু’জনকে একযোগে শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেখা যায়। বিক্ষোভের মাঝেই অবশ্য বিজেপির ওড়িশার এক সাংসদ কল্যাণকে উদ্দেশ্য করে খোঁচা দিতে ছাড়েননি।

অন্যদিক, শ্রীরামপুরের সাংসদের সাসপেনশন তোলার দাবিতে একজোট হয়েছে সমগ্র বিরোধী শিবির। এদিন অধিবেশন শুরুর পূর্বেই স্পিকার ওম বিড়লার দ্বারস্থ হয় বিরোধীদের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল। কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল সহ তৃণমূল ও অন্যান্য বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। মূলত ‘নিট’ বিতর্ক ঘিরে পার্লামেন্টের তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটানো নিয়ে আলোচনার মাঝেই কল্যাণের শাস্তির বিষয়টি উত্থাপিত হয়। বিরোধীদের দাবি ছিল দুটি— প্রথমত, যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা ঘটেছিল অধিবেশন মুলতুবি হওয়ার পর। দ্বিতীয়ত, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগে প্ররোচিত করা হয়েছিল, তিনি কেবল তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন; নিজ থেকে কাউকে অপমান করেননি। যদিও স্পিকারের তরফ থেকে সাসপেনশন প্রত্যাহারের বিষয়ে এখনও কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত মেলেনি।

যাঁদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কল্যাণের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেই বিদ্রোহী শিবিরের নেতারা অবশ্য একে খুব একটা পাত্তা দিতে নারাজ। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এনসিপিআই (NCPI) নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার সাফ জানান, “এদের নিয়ে যত কথা বলা হবে, এরা তত বেশি প্রচার ও গুরুত্ব পেয়ে যাবে। তাই আমরা এদের অহেতুক বাড়তি গুরুত্ব দিতে চাই না।”

Related Articles