কলকাতা

“নিজেদের ঝগড়া নিজেরা মেটান!” বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ইস্যুতে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

তাঁর অভিযোগ, তাঁদের শিবিরের পাঠানো বক্তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে

Truth of Bengal: বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ এবং বক্তাদের তালিকা নিয়ে ফের প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের দুই শিবিরের দ্বন্দ্ব। বুধবার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট আলোচনায় বক্তব্য রাখতে উঠেও শেষ পর্যন্ত বসে পড়তে হয় কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদ। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের শিবিরের পাঠানো বক্তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এরপরই বিরোধী শিবিরকে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিবাদ মেটানো মুখ্যমন্ত্রী বা বিধানসভার দায়িত্ব নয়। নিজেদের সমস্যা নিজেরাই মিটিয়ে অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে চলতে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরে বিভাজন তৈরি হয়েছে। বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাটপন্থী শিবির শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির তাঁকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে। ফলে অধিবেশনে বিরোধীদের পক্ষে কে বক্তব্য রাখবেন, তা নিয়ে বারবার জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

অভিযোগ, একটি শিবির প্রথমে বিধানসভার সচিবের কাছে বক্তাদের একটি তালিকা জমা দিচ্ছে। পরে অন্য শিবির থেকে পৃথক তালিকা পাঠানো হচ্ছে। একই দলের দুই গোষ্ঠীর ভিন্ন তালিকার কারণে বক্তাদের সময় নির্ধারণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এর আগেও অধিবেশনে একই ধরনের বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছিল। বুধবার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট নিয়ে আলোচনা চলাকালীন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের তরফে বক্তব্য রাখতে ওঠেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বক্তব্য রাখতে পারেননি। তাঁকে বসে পড়তে হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে সরব হন আলিফা আহমেদ। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু তাঁদের পক্ষ থেকে বক্তা হিসেবে যাঁদের নাম পাঠানো হচ্ছে, সেই নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক বিধায়কের বক্তব্য রাখার জন্য নির্দিষ্ট সময় থাকে। আগে থেকে কে কখন বক্তব্য রাখবেন, তা জানানো হলে প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হয় বলেও জানান তিনি।

আলিফার বক্তব্যের পর জবাব দিতে উঠে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বিধানসভায় কালীঘাটপন্থী তৃণমূল ছাড়াও আইএসএফ, সিপিএম, কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল রয়েছে। প্রত্যেক দল যাতে বক্তব্য রাখার সুযোগ পায়, সেই অনুযায়ী সময় ভাগ করে দেওয়া প্রয়োজন। নিজের বিরোধী দলনেতা থাকার অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণত বিরোধী দলের চিফ হুইপই বক্তাদের সময় নির্ধারণ করেন। এরপর তৃণমূলের দুই শিবিরকে নিশানা করে তাঁর মন্তব্য, “আপনাদের নিজেদের ঝগড়া নিজেরাই মেটান। সেই বিবাদ মেটানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী বা হাউস বসে নেই। নিজেদের সমস্যা মিটিয়ে অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে চলতে দিন।”

Related Articles