“আমি গদ্দার হতে পারি, কিন্তু চোর নই!” দল থেকে বহিষ্কারের পরেই বিস্ফোরক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কর্পোরেট’ নীতিকেই দায়ী করেছেন ঋতব্রত
Truth of Bengal: ছাব্বিশের ভোটে বঙ্গে তৃণমূলের সাম্রাজ্য পতনের পর ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে যে ‘মুষল পর্ব’ শুরু হয়েছে, তা মঙ্গলবার আরও একধাপ এগিয়ে গেল। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর এবার সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ক্ষোভ উগরে দিলেন উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সকালে বিধানসভায় যাওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নাম না করে অভিষেককে তীব্র নিশানা করেন তিনি। ঋতব্রতের চাঁছাছোলা তোপ, “আমি গদ্দার হতে পারি, কিন্তু চোর নই। আমাকে অন্তত কেউ চোর বলছে না।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল আজ যেভাবে খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে, তার জন্য পরোক্ষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কর্পোরেট’ নীতিকেই দায়ী করেছেন ঋতব্রত।
তিনি বলেন, “এত বড় জননেতা, অথচ ভোটের ফল প্রকাশের পর ২৬ দিন ঘরের বাইরে বেরোতে পারেননি! আর আমরা কোনও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ছাড়াই নিজেদের বিধানসভা এলাকায় ঘুরছি, কারণ আমাদের কেউ চোর বলছে না।” সোনারপুরে আক্রান্ত হওয়ার পর সম্প্রতি সাংসদ হিসেবে কেন্দ্রের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন অভিষেক। সেই প্রসঙ্গ টেনে ঋতব্রত কটাক্ষ করে বলেন, “আমাদের নিরাপত্তা চাইতে হয়নি। নিরাপত্তা তাঁকে চাইতে হচ্ছে, যাঁকে জনগণ আর রক্ষা করছে না।” তাঁর স্পষ্ট দাবি, মা-মাটি-মানুষের স্তরে তৈরি হওয়া একটা রাজনৈতিক দলকে জোর করে ‘কর্পোরেট ধাঁচে’ পরিচালনা করার অহংকারই আজ তৃণমূলকে শেষ করে দিল।
দলের একাধিক দুর্নীতি নিয়ে নিজের অস্বস্তির কথা স্বীকার করলেও, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা যে এখনও অটুট, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন উলুবেড়িয়ার এই বহিষ্কৃত বিধায়ক। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেত্রী ভারতীয় রাজনীতিতে খুব কম আছেন। উনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা ছিল, আছে এবং চিরকাল থাকবে।” তবে এদিনের সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি ঋতব্রত নিজেই ফাঁস করেছেন। তিনি জানান, তৃণমূলের অন্য বিধায়কদের সঙ্গে এই মুহূর্তে তাঁর সরাসরি কোনও কথা না হলেও, তৃণমূলের প্রাক্তন ভোটকুশলী তথা বিহারের ‘জন সুরাজ’ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরের (PK) সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে। পিকের সঙ্গে তাঁর এই কথোপকথন বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত অর্থবহ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





