কলকাতা

মেয়ো রোডের একুশের মঞ্চে তুলকালাম! ‘ক্ষমা চাও’, খোলা চ্যালেঞ্জ দিয়ে অভিষেককে ২ ঘণ্টার ডেডলাইন মদনের

“লিফট আর প্যারাশুটে নামাদের অস্তিত্ব থাকবে না!”, অভিষেককে বেনজির আক্রমণ ফিরহাদের!

Truth of Bengal: ২১ জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ দিবসে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের গৃহকোন্দল এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন রূপ ধারণ করল। দল ছেড়ে বিকল্প ‘ঋতশিবিরে’ নাম লেখানো প্রবীণ নেতা মদন মিত্র ও ফিরহাদ হাকিম এদিন একুশের বিশেষ মঞ্চ থেকেই সরাসরি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) তীব্র আক্রমণ শানালেন। ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে সমান্তরাল দল চালানো, ‘দম্ভ’ এবং প্রবীণ নেতাদের অপমান করার অভিযোগে বিদ্ধ করে অভিষেককে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার জন্য চরম ডেডলাইন বেঁধে দিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)।

মঙ্গলবার বিড়লা তারামণ্ডলের মূল সভামঞ্চ থেকে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহী শিবিরকে একের পর এক তোপ দাগছিলেন, ঠিক তখনই মেয়ো রোডের বিকল্প মঞ্চ থেকে পালটা হামলা চালান মদন-ফিরহাদরা। তারামণ্ডলের মঞ্চ থেকে অভিষেক স্পষ্ট হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “এদের কোনও মেরুদণ্ড নেই। নেত্রীকে বলব, এদের কাউকে যেন দলে আর ফেরত না নেওয়া হয়।” মমতারও স্পষ্ট বার্তা ছিল, “যারা যাওয়ার বিজেপিতে চলে যান, ফাঁকা স্থান পূরণের জন্য আমার ছাত্র ও যুবরাই যথেষ্ট।”

কিন্তু তারামণ্ডলের এই কড়া সুরকে বিন্দুমাত্র রেয়াত না করে মেয়োরোডের মঞ্চ থেকে পালটা চ্যালেঞ্জ ছোড়েন মদন মিত্র। গতকাল ফেসবুক লাইভে অভিষেককে ‘অপরাধী’ ও ‘সুপারি কিলার’ বলে কটাক্ষ করার পর এদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে মদন বলেন, “ডায়মন্ড হারবার নিয়ে অন্য নেতাদের চমকানো গেলেও আমাকে চমকানো যাবে না। সিপিএম আমলেও আমাকে ভয় দেখিয়ে দমানো যায়নি।” শুধু তাই নয়, অভিষেককে দুই ঘণ্টার ডেডলাইন দিয়ে তিনি বলেন, “ক্ষমতা থাকলে মঞ্চে এসে স্বীকার করো যে তোমার জন্যই আজ তৃণমূলের এই হাল হয়েছে!”

অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের সঙ্গী তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও (Firhad Hakim) নাম না করে অভিষেককে তীব্র বিঁধেছেন। প্রবীণ-নবীন দ্বন্দ্ব উস্কে দিয়ে ফিরহাদ মন্তব্য করেন, “যারা কষ্ট না করে লিফটে উঠে রাজনীতিতে আসছেন কিংবা প্যারাশুটে করে নামছেন, রাজনীতিতে তাঁদের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না।” একুশে জুলাইয়ের মতো আবেগঘন দিনটিকে ‘রিয়ালিটি শো’ বা ‘ক্যাটওয়াকের মঞ্চ’ বানিয়ে ফেলা হয়েছে বলে তোপ দাগেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও। একই সঙ্গে শহিদ তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ না করা নিয়ে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেও প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন বিদ্রোহীরা। সব মিলিয়ে ২১ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক দিনে শাসকদলের এই উন্মুক্ত সংঘাত রাজ্য রাজনীতিতে চরম তোলপাড় ফেলে দিয়েছে।

Related Articles