কলকাতা

“তৃণমূলকে তো জঙ্গি সংগঠনের মতো ব্যান করা উচিত!” সই বিতর্ক আসতেই চরম তোপ মন্ত্রী দিলীপের

তৃণমূল বিধায়কদের রেজোলিউশনে ‘সই জাল’ করার ঘটনা নিয়ে মুখ খুলে সরাসরি তৃণমূলকে ‘জঙ্গি সংগঠন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি

Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার সই জাল জালিয়াতির বিতর্কে জড়িয়ে কোণঠাসা প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। আর এই চরম রাজনৈতিক ডামাডোলের আবহে প্রাক্তন শাসকদলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তৃণমূল বিধায়কদের রেজোলিউশনে ‘সই জাল’ করার ঘটনা নিয়ে মুখ খুলে সরাসরি তৃণমূলকে ‘জঙ্গি সংগঠন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, অপকর্মের দায়ে ঘাসফুল শিবিরকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং তাদের দলীয় প্রতীক কেড়ে নেওয়ারও দাবি তুলেছেন মেদিনীপুরের এই বর্ষীয়ান নেতা। সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সই জাল কাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ স্বভাবসিদ্ধ চাঁছাছোলা মেজাজে বলেন: “তৃণমূলের পুরো পার্টিটাই জালি! এদের থেকে এর চেয়ে বেশি আর কী আশা করা যায়? দলে এখন পুরোপুরি মুষল পর্ব শুরু হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি এই দলটা বাংলা থেকে উঠে যায়, বাংলার মানুষের পক্ষে ততই মঙ্গল।”

এই প্রসঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে একটি রূপক গল্প টেনে বেনজির কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “উনি নিজেই সবাইকে চুরি করতে শিখিয়েছেন, এখন দল সুদ্ধু সবাইকে তার ফল ভোগ করতে হবে। ছোটবেলায় একটা গল্প পড়েছিলাম— এক রাখাল ছেলে স্কুলে সবার খাতা-বই-পেনসিল চুরি করত। যেদিন সে ধরা পড়ল, সেদিন বিচারকের সামনে নিজের মাসির কানে কথা বলার বাহানায় মাসির কান কামড়ে ছিঁড়ে দিয়েছিল। ছেলেটি বলেছিল, ‘মাসি, প্রথম যেদিন চুরি করেছিলাম তুমি শাসন করোনি, তুমিই আমাকে চুরি করতে শিখিয়েছ।’ এই দলটারও ঠিক তাই অবস্থা। তবে এই মাসির কান কাটা এখনও বাকি আছে।” গত শনিবার নোটিস পাওয়ার পর সোনারপুরে আক্রান্ত হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তেজিত জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো ও ইট ছুড়েছিল বলে অভিযোগ। প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের পর এবার অভিষেকের ওপর ডিম হামলার এই ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে কার্যত ব্যঙ্গাত্মক সুর শোনা গেল দিলীপ ঘোষের গলায়।

তিনি হাসতে হাসতে বলেন, “আমরা তো বারবারই বলছি বাজারে এখন ডিমের ক্রাইসিস (ঘাটতি) আছে। এর-তার গায়ে এভাবে ডিম ছুঁড়ে পুষ্টিকর খাবার নষ্ট করবেন না। তার চেয়ে সাধারণ মানুষকে বলব, ডিম নিজেরা খান, শরীরে শক্তি বাড়ান। এই সমস্ত ফালতু লোককে ডিম মেরে কোনও লাভ নেই।”

Related Articles