পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে ইডির বড় পদক্ষেপ! মদন মিত্রকে সিজিএমে তলব
একই মামলায় চলতি সপ্তাহেই তাঁর স্ত্রী অর্চনা মিত্র এবং দুই ছেলে স্বরূপ মিত্র ও শুভরূপ মিত্রকেও তলব করা হয়েছে
Truth of Bengal: পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের নজরে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র। আগামী ২৯ জুলাই সকাল ১১টায় তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হতে বলেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। একই মামলায় চলতি সপ্তাহেই তাঁর স্ত্রী অর্চনা মিত্র এবং দুই ছেলে স্বরূপ মিত্র ও শুভরূপ মিত্রকেও তলব করা হয়েছে। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, মদনের স্ত্রী ও দুই ছেলেকে ২২ এবং ২৩ জুলাই প্রয়োজনীয় ব্যাঙ্ক নথি নিয়ে তদন্তকারীদের সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে। এর আগে গত ১৩ জুন মদন মিত্রের একাধিক ঠিকানায় দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই সময় তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই অভিযানের পরেই তাঁর পরিবারের সদস্যদের তলব করা হল।
ইডির সমন প্রসঙ্গে মদন মিত্র জানিয়েছেন, তদন্তে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। তাঁর কথায়, “আমাকে ডাকা হলে কোনও অসুস্থতা বা অন্য অজুহাত দেখাব না। হাজিরার দিন পরিবর্তনের আবেদনও করব না। আমার স্ত্রী এবং ছেলেরাও তদন্তকারীদের সামনে যাবেন। কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা প্রয়োজন মনে করেই ডেকেছে। দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করব।” কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, নগদ টাকা এবং সোনার বিনিময়ে কামারহাটি ও টিটাগড় পুরসভায় অন্তত ১২৫ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে মদন মিত্রের কোনও যোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। যদিও এই অভিযোগগুলি এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
পুর নিয়োগ মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী এবং তৃণমূল নেতা সুজিত বসু। তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে অতিরিক্ত চার্জশিটও জমা দিয়েছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে দাবি, দক্ষিণ দমদম পুরসভার তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই দত্তের অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া নথিতে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির সুপারিশে চাকরি দেওয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে নিতাই জানিয়েছিলেন বলে ইডির দাবি, পুরসভার প্রত্যেক কাউন্সিলর দু’জন এবং চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিলের প্রত্যেক সদস্য পাঁচজনের নাম চাকরির জন্য সুপারিশ করতে পারতেন। ইডির আরও দাবি, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের তরফে ছ’জনের নাম সুপারিশ করা হয়েছিল এবং তাঁদের চাকরির বিষয়টি দেখার দায়িত্ব নিয়েছিল দক্ষিণ দমদম পুরসভার বোর্ড। উদ্ধার হওয়া নথিতে ‘ববিদা’ এবং ‘সুজিতদা’ নামেও পৃথক সুপারিশের উল্লেখ ছিল বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। চাকরির সুপারিশ সংক্রান্ত আলাদা ফাইলও রাখা হত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।






