CAA Matua community: সিএএ আবহে মতুয়াদের স্বস্তি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই দ্রুত মিলছে নাগরিকত্বের শংসাপত্র
নাগরিকত্বের আবেদন করার পরও ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিয়ে সংশয় তৈরি হলেও, দ্রুত গতিতে আবেদনকারীদের মোবাইলে শংসাপত্র আসার মেসেজ আসতে শুরু করেছে।
Truth of Bengal: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আবহে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়া মতুয়া সম্প্রদায় সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশের পরই বড় ধরনের স্বস্তি পেতে শুরু করেছে। নাগরিকত্বের আবেদন করার পরও ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিয়ে সংশয় তৈরি হলেও, দ্রুত গতিতে আবেদনকারীদের মোবাইলে শংসাপত্র আসার মেসেজ আসতে শুরু করেছে। মতুয়া মহাসঙ্ঘের সভাধিপতি শান্তনু ঠাকুরের আশ্বাসে দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার মতুয়া ঠাকুরনগরের ক্যাম্পে এসে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন। তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন যে আবেদনের ডকেট নাম্বার দেখিয়েই ভোটার তালিকায় নাম তোলা যাবে।
তবে এই আবহে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে নাগরিকত্বের আবেদন করলেই ভোটার তালিকায় নাম তোলা যাবে না। অর্থাৎ, আগে নাগরিকত্ব পেতে হবে, তারপরেই তাঁরা ভোটাধিকার পাবেন। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পরই আবেদনকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ঠিক পরেই তড়িঘড়ি সার্টিফিকেট প্রদান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে রাতারাতি হাজার হাজার মানুষের মোবাইলে শংসাপত্র আসার মেসেজ এসে পৌঁছায়। বনগাঁর আবেদনকারী দুলালী মণ্ডল, যাঁর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল না, তিনি স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, “হাতে পাচ্ছিলাম না বলে একটু দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এখন হিয়ারিংয়ে ডাকলে তো আর কোনও সমস্যা নেই। এটা দেখিয়ে দিলেই ভোটার লিস্টে নাম উঠে যাবে।” তাঁর স্বামী মানিক কুমার মণ্ডল জানান, তাঁর বাবা-মায়ের নাম পুরোনো তালিকায় থাকায় তাঁর হয়তো ‘হিয়ারিং’-এর প্রয়োজন হবে না। কিন্তু তাঁর স্ত্রীর শংসাপত্র আসায় এখন তাঁরও আর কোনো চিন্তা রইল না।
মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মহিতোশ বৈদ্য এই বিষয়ে বলেন, “এটা সত্যিই, যাঁরা আবেদন করেছিলেন, গত পরশু রাতে তাঁদের অনেকের কাছেই মেসেজ এসেছে। আমরা জানতে পেরেছি, প্রায় সাড়ে তিন হাজার আবেদনকারীর ফাইল আধিকারিকরা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে এখনও ১০ শতাংশ আবেদনকারী পাননি। সেক্ষেত্রে কিছুটা সংশয় থেকেই যাচ্ছে। কেন্দ্র সরকার যাতে দ্রুত এই সার্টিফিকেটগুলি ছাড়ে, সেই আবেদন রয়েছে।” অনেকের কাছে নাগরিকত্বের শংসাপত্র আসায় স্বস্তি এলেও, কেউ কেউ আবার বাংলাদেশের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কষ্টের কথা উল্লেখ করেছেন।
সিএএ কার্যকর হওয়ার পর লক্ষ লক্ষ মানুষ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন। এত স্বল্প সময়ের মধ্যে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের নাগরিকত্বের শংসাপত্র পৌঁছে দেওয়া সম্ভব কিনা, তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব সংশোধন আইনে স্পষ্ট করে বলা আছে যে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাঁরা ভারতে এসেছেন, তাঁরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। নির্দিষ্ট জাতিগত শর্ত যাচাই এবং আবেদন বিচারাধীন থাকা পর্যন্ত তাঁদের ভারতের নাগরিক হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে না।






