রাজ্যের খবর

সোনারপুরের পর এবার নৈহাটি! ‘চোর’ স্লোগানের মাঝে ডিম ছুড়ে আক্রমণ প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে

সোমবার বিকেলের পর আচমকাই তিনি ওই কার্যালয়ে এসে তালা খোলেন

Truth of Bengal: সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটিতে জনরোষের মুখে পড়লেন আরও এক ঘাসফুল শিবিরের হেভিওয়েট নেতা। নৈহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে-কে ঘিরে ধরে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে লক্ষ্য করে দেদার ডিম ছোড়া হলো বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, শেষ পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কায়দাতেই মাথায় হেলমেট পরে পুলিশি পাহারায় কোনওরকমে এলাকা ছাড়তে হয় প্রাক্তন বিধায়ককে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নৈহাটির বিজয়নগর এলাকায় প্রাক্তন বিধায়ক সনৎ দে-র বাড়ি এবং সেখানেই তাঁর একটি ব্যক্তিগত কার্যালয় রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকে ওই অফিসটি বন্ধই ছিল এবং সনৎ বাবুকেও এলাকায় তেমন একটা দেখা যাচ্ছিল না। কিন্তু সোমবার বিকেলের পর আচমকাই তিনি ওই কার্যালয়ে এসে তালা খোলেন।

প্রাক্তন বিধায়ককে অফিসে ঢুকতে দেখেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। অভিযোগ ওঠে, বন্ধ অফিস থেকে চুরির মাল বা গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সম্পদ অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। এই সন্দেহের বশেই মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা অফিসটি ঘেরাও করে বাইরে প্রবল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বাইরের পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কার্যালয়ের ভেতর থেকেই নৈহাটি থানায় ফোন করে সাহায্য চান সনৎ দে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে ঘরের ভেতর থেকে প্রাক্তন বিধায়ককে উদ্ধার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। জনতার ক্ষোভ থেকে বাঁচতে সনৎ বাবুকে একটি হেলমেট পরিয়ে বাইরে আনা হয়। কিন্তু তিনি বেরোতেই জনরোষ আরও ফেটে পড়ে। তাঁকে লক্ষ্য করে চারদিক থেকে ‘চোর চোর’ স্লোগান উঠতে থাকে এবং উত্তেজিত জনতা লাগাতার ডিম ছুড়তে শুরু করে। পুলিশ কার্যত মানবপ্রাচীর তৈরি করে সনৎ দে-কে গাড়িতে তুলে এলাকা থেকে বের করে নিয়ে যায়।

ছাব্বিশের ভোটে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে রাজ্যে তৃণমূল নেতাদের ওপর জনরোষের এই ট্রেন্ড বা ধারা অব্যাহত। প্রথমে বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়কে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান ও ডিম ছোড়া হয়েছিল। এরপর গত শনিবার সোনারপুরে সিআইডি নোটিস পাওয়ার পর একইভাবে আক্রান্ত হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও সম্প্রতি জনরোষের শিকার হয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো নৈহাটির প্রাক্তন বিধায়ক সনৎ দে-র নাম। এই ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। পদ্মশিবিরের নেতাদের দাবি, “এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচারিত। অনেকেই আগে ওই অফিসে সমাজবিরোধীদের বোমা ও পিস্তল নিয়ে ঢুকতে দেখেছেন। প্রাক্তন বিধায়ক নিজে সাধারণ মানুষকে হুমকি দিতেন। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ভোট ফুরোলেও ওই পার্টি অফিসের ভেতরে এখনও প্রচুর বেআইনি অস্ত্র বা বোমা মজুত থাকতে পারে, যা সরানোর জন্যই উনি এসেছিলেন।”

Related Articles