রাজ্যের খবর

বুধবার থেকেই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৩০০০ টাকা! ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে বিরাট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

অফলাইনের পর এবার অনলাইনের পালা! বছরে মিলবে ৩৬ হাজার, ফর্ম পূরণ নিয়ে মহিলাদের কী আবেদন করলেন শুভেন্দু?

Truth of Bengal: নির্বাচনী ইস্তেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করে অবশেষে রাজ্যে পথ চলা শুরু করল ‘মাতৃশক্তি ভরসা’ প্রকল্পের অন্যতম অঙ্গ ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। জুন মাসের শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়া চালুর যে কথা সরকার দিয়েছিল, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হলো। গত বুধবার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম প্রকাশের পর এক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়ে যাচ্ছে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর কাজ। তারকেশ্বরে এক জনসভা থেকে বাংলার মা-বোনেদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কাল অর্থাৎ বুধবার থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে ঢুকতে শুরু করবে। সেই সঙ্গে অফলাইনের পাশাপাশি এখন থেকে অনলাইনেও এই প্রকল্পের ফর্ম পূরণ করা যাবে বলে সরকার জানিয়েছে।

“আমরা যা বলি, ভেবেচিন্তেই বলি”

এদিন তারকেশ্বর থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কাল থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া শুরু হচ্ছে। যাঁরা সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করেছেন, তাঁরা প্রত্যেকে টাকা পাবেন। আমরা যা বলি, ভেবেচিন্তেই বলি। তবে মনে রাখবেন, কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বা ঘুষপেটিয়াকে এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে না।” ফর্ম পূরণ নিয়ে বিরোধীদের তৈরি করা বিভ্রান্তি উড়িয়ে দিয়ে মহিলাদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, “বাজার থেকে ২০ টাকার ঢ্যাঁড়স কিনতে গেলেও আপনারা টিপে দেখেন। আর এখানে সরকার বছরে ৩৬ হাজার টাকা দেবে। একটু যাচাই বা স্ক্রুটিনি তো করবেই। দয়া করে সরকারকে একটু সহযোগিতা করুন।” তিনি আরও জানান, যাঁরা এখনও ফর্ম তোলেননি, তাঁরাও বঞ্চিত হবেন না; অন্তর্বর্তী সময় পর্যন্ত তাঁদের অ্যাকাউন্টে আগের নিয়মেই টাকা ঢুকবে।

৩০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্ট! নবান্নে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে সোমবারই নবান্নে দাঁড়িয়ে এক মারাত্মক কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের জমানায় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক তছরুপ হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “তদন্তে দেখা যাচ্ছে রাকিবুল, মুস্তাফিজুর, তারিকুলদের মতো কিছু জালিয়াতি চক্র এবং এসআইআর (SIR) থেকে নাম বাদ যাওয়া প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জনগণের হাজার কোটি টাকা লুট করা হয়েছে। বহু তৃণমূল নেতা, যাঁরা এই কর্মসূচির আওতায় আসেন না, তাঁরাও টাকা তুলেছেন। আমরা এদের একেবারে গ্রাসরুট থেকে ক্র্যাক ডাউন করব।”

ইতিমধ্যেই এই চক্রের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক তছরুপের তদন্ত করতে রাজ্য সরকারের তরফে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠন করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের মামলা রুজু করে কড়া আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে, একদিকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু করে মহিলাদের মুখে হাসি ফোটানো, আর অন্যদিকে পূর্বতন সরকারের জমানার দুর্নীতিতে রাশ টানা, দুই ফ্রন্টেই ছাব্বিশের বাংলায় মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Related Articles