দেশ

তামিলনাড়ুতে বিজেপির বড় ধাক্কা! ইস্তফা দিলেন পোস্টারবয় আন্নামলাই

দলের সঙ্গে বিজেপির জোট করার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি।

Truth of Bengal: ছাব্বিশের রাজনৈতিক ডামাডোলের আবহে এবার দক্ষিণ ভারতে তথা দ্রাবিড়ভূমে বিরাট ধাক্কা খেল ভারতীয় জনতা পার্টি। যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দল থেকে ইস্তফা দিলেন তামিলনাড়ুতে বিজেপির প্রধান মুখ তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে আন্নামলাই। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, বিজেপির সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক চুকিয়ে এবার তামিলনাড়ুর মাটিতে নিজস্ব একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে নতুনভাবে পথ চলা শুরু করতে চলেছেন এই প্রাক্তন আইপিএস (IPS) অফিসার। ইতিমধ্যেই তিনি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে গেরুয়া শিবির এখনও তাঁর এই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেনি এবং আন্নামলাইয়ের মান ভাঙাতে সর্বোচ্চ স্তরে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।বিজেপি ও আন্নামলাইয়ের মধ্যেকার এই ঠোকাঠুকি অবশ্য হঠাৎ করে শুরু হয়নি, এর শিকড় রয়েছে বেশ গভীরে। সিবিএসই (CBSE)-র শিক্ষানীতিতে তিন ভাষা বাধ্যতামূলক করার কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রকাশ্য বিরোধিতা করে তামিল আবেগকে হাতিয়ার করেছিলেন আন্নামলাই। এর পাশাপাশি, তামিলনাড়ুতে এআইডিএমকে (AIADMK) দলের সঙ্গে বিজেপির জোট করার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি।

এই লাগাতার বিরোধিতার জেরেই আন্নামলাইকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নাইনার নাগেন্দ্রনকে সেই পদে বসায় দিল্লির নেতৃত্ব। এমনকি সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনেও আন্নামলাইকে কোনও টিকিট না দিয়ে কার্যত বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যদিও সেই সময় বিতর্ক ধামাচাপা দিতে আন্নামলাই নিজে সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করেছিলেন যে, তিনি নিজেই ভোটে না লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু ভেতরের ক্ষোভ যে কমেনি, এই ইস্তফায় তা স্পষ্ট। আন্নামলাইয়ের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, বিজেপির অন্দরে নিজের কোনও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছিলেন না বলেই এই চরম পদক্ষেপ করেছেন তিনি।সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্নামলাইকে দলে ধরে রাখতে তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করার টোপও দিয়েছিল গেরুয়া শিবির, কিন্তু সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে মঙ্গলবার দিল্লিতে দফায় দফায় ম্যারাথন বৈঠক করেন বিজেপি সভাপতি নীতীন নবীন এবং বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ। জলঘোলা এতটাই বাড়ে যে, শেষপর্যন্ত খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও বৈঠকে বসতে হয় আন্নামলাইকে।

সূত্রের খবর, শীর্ষ নেতৃত্বের মানভঞ্জনের যাবতীয় চেষ্টা ব্যর্থ করে সেই বৈঠকেই আন্নামলাই স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি বিজেপির সঙ্গে কোনও তিক্ততা না রেখে একটি ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ বিচ্ছেদ’ (Amicable Parting) চান। এরপরই তিনি সভাপতির টেবিলে ইস্তফাপত্র সঁপে দেন।