লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছিলেন ১৭৩ পুরুষ! কৃষ্ণনগর-২ ব্লকে চাঞ্চল্য
সেই যাচাইয়ের সময়ই কৃষ্ণনগর-২ ব্লক প্রশাসনের নজরে আসে বড়সড় অসঙ্গতি।
Truth of Bengal: রাজ্যজুড়ে ‘পুরুষ লক্ষ্মী’র খোঁজ মেলার অভিযোগে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল নদিয়ায়। এবার কৃষ্ণনগর-২ ব্লকে সামনে এল বিস্ময়কর তথ্য। প্রশাসনিক যাচাই প্রক্রিয়ায় ধরা পড়েছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় নাম ছিল ১৭৩ জন পুরুষের। শুধু তালিকায় নামই নয়, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নিয়মিতভাবে প্রকল্পের মাসিক অনুদানও জমা পড়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। রাজ্যে পালাবদলের পর লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে চালু হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা। এই প্রকল্পে যোগ্য মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে সরকার। সেই অনুযায়ী উপভোক্তা তালিকা যাচাই ও ঝাড়াইবাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে বিভিন্ন জেলায়। আর সেই যাচাইয়ের সময়ই কৃষ্ণনগর-২ ব্লক প্রশাসনের নজরে আসে বড়সড় অসঙ্গতি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্লকের উপভোক্তা তালিকা খতিয়ে দেখতে গিয়ে দেখা যায়, ১৭৩ জন পুরুষের নাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তালিকায় রয়েছে। কীভাবে মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট প্রকল্পে পুরুষদের নাম ঢুকল, কীভাবে তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা গেল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত। এই ঘটনায় ব্লকের এক কর্মী ভোলা শীলকে শোকজ করেছে জেলা প্রশাসন। সূত্রের দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের কাজের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তবে শোকজ নোটিস জারির পর থেকেই তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। ধুবুলিয়ার নেতাজি পল্লিতে তাঁর বাড়িতে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
ভোলার পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিনি চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছেন। তাঁদের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক হওয়ায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের পরিবারকে এই ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়েছে। কীভাবে এত বড় অসঙ্গতি এতদিন নজর এড়িয়ে গেল, কার গাফিলতিতে পুরুষদের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকল—সব দিক খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।






