পুর আইন মেনেই বৈঠক ডাকবেন চেয়ারপার্সন! কলকাতা পুরসভা মামলায় হাই কোর্টের নির্দেশ
এই আবহে রাজ্য সরকারের তরফে একে একে বাতিল করা হয় মেয়র পারিষদ (MMIC) বৈঠক এবং স্থগিত করা হয় পুরসভার মাসিক অধিবেশনও। এমনকি পুরসভার সচিবকেও বদলে দেয় নতুন সরকার
Truth of Bengal: বঙ্গে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর কলকাতা পুরসভাকে (KMC) কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার ও বিদায়ী পুর-বোর্ডের মধ্যে যে নজিরবিহীন সংঘাত তৈরি হয়েছিল, তাতে এবার বড়সড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আইনি লড়াইয়ে সাময়িক স্বস্তি পেল ঘাসফুল শিবির। আজ, বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পুর আইন মেনেই কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় তাঁর ক্ষমতাবলে মাসিক অধিবেশন বা বৈঠক ডাকতে পারবেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই কলকাতা পুরসভা ভেঙে দেওয়া হতে পারে বলে জোর চর্চা চলছে ওয়াকিবহাল মহলে। এই আবহে রাজ্য সরকারের তরফে একে একে বাতিল করা হয় মেয়র পারিষদ (MMIC) বৈঠক এবং স্থগিত করা হয় পুরসভার মাসিক অধিবেশনও। এমনকি পুরসভার সচিবকেও বদলে দেয় নতুন সরকার।
এই চরম ডামাডোলের মাঝেই গত ২২ মে পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় একটি মাসিক বৈঠক ডেকেছিলেন। সেদিন মেয়র ফিরহাদ হাকিম-সহ তৃণমূলের কাউন্সিলররা পুরসভায় উপস্থিত হলেও দেখা যায়, মূল অধিবেশন কক্ষের দরজায় বড় বড় তালা ঝুলছে! দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও ঘর না খোলায়, নজিরবিহীনভাবে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল কাউন্সিলররা। শেষমেশ বাধ্য হয়েই অধিবেশন কক্ষের বাইরের অলিন্দে মালা রায়ের নেতৃত্বে সভার কাজ চালানো হয়। এই ঘটনাকে ‘পুরসভার কালো দিন’ বলে আখ্যা দিয়ে ফিরহাদ হাকিম আবেদন করেছিলেন, “রাজ্য সরকারের কাছে অনুরোধ, সংঘাত নয়, সাধারণ মানুষের স্বার্থে আমাদের একসাথে কাজ করতে দেওয়া হোক।” এই তালাবন্ধ কাণ্ডের পরই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব।
বুধবার এই মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ যেমন চেয়ারপার্সনের বৈঠক ডাকার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তেমনই গত ২২ মে হওয়া ওই বিতর্কিত বৈঠকের আইনি বৈধতাও খতিয়ে দেখছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, গত ২২ মে বারান্দায় বসা ওই অধিবেশনে কী কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তার ‘বৈধ রেজোলিউশন’-এর কপি আগামী ৯ জুনের মধ্যে হলফনামা আকারে আদালতে জমা দিতে হবে। আগামী ১৭ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের একের পর এক কড়া সিদ্ধান্তের মুখে কলকাতা হাইকোর্টের এই রায় বিদায়ী তৃণমূল বোর্ডের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক।






