এবার টলিউডেও SIR! ইন্ডাস্ট্রির ‘অযোগ্য’দের বাছতে বিরাট ঘোষণা পাপিয়ার
বুধবার সকালে টেকনিশিয়ান স্টুডিও চত্বরে একটি হাইপ্রোফাইল বৈঠক করেন তিনি
Truth of Bengal: দীর্ঘ দুই দশক ধরে টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে কায়েম থাকা ‘বিশ্বাস দুর্গে’র পতন ঘটিয়েই এবার বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির খোলনলচে বদলে দিতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়লেন অভিনেত্রী তথা নবাগত বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। নিজেকে ‘মোদিজির সেনাপতি’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বুধবার সকালে টেকনিশিয়ান স্টুডিও চত্বরে একটি হাইপ্রোফাইল বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে টলিউডের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা দুর্নীতি, ক্ষমতার আস্ফালন এবং ‘ব্যান কালচার’ বা নিষিদ্ধ করার সংস্কৃতিকে ধুয়ে-মুছে সাফ করার জন্য একগুচ্ছ নজিরবিহীন ও কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন তারকা বিধায়ক।
বিগত এক দশকে টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে স্বরূপ বিশ্বাস এবং ‘ফেডারেশন অব সিনেমা টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’ কার্যত সমার্থক হয়ে উঠেছিল। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর একচ্ছত্র প্রতিপত্তির জেরে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের শিল্পী ও কলাকুশলীদের প্রতিনিয়ত কোণঠাসা হতে হতো। গত এক বছরে টলিউডের এই ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। এদিন সেই চেনা কাঠামোকে পুরোপুরি ভেঙে ফেলার ডাক দিয়ে পাপিয়া অধিকারী জানান: ফেডারেশনের পুরনো জমানা আর থাকবে না। এবার টলিউডের সমস্ত স্তরের শিল্পী ও টেকনিশিয়ানরা এক ছাতার তলায় আসবেন। ফেডারেশনের পরিবর্তে এবার থেকে সিনেমা মহলের নতুন অভিভাবক হতে চলেছে— Eastern India Motion Pictures & Cultural Confederation (EIMPCC)। আগে ফেডারেশনের অধীনে যে ২৬টি আলাদা আলাদা গিল্ড বা সংগঠন ছিল, তা সম্পূর্ণ বাতিল করা হচ্ছে। পরিবর্তে গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে মাত্র ৪টি মূল বিভাগে ভাগ করা হয়েছে— ‘সিনেম্যাটোগ্রাফি’, ‘পরিচালক’, ‘প্রোডাকশন কন্ট্রোলার’ এবং ‘আর্ট অ্যান্ড কস্টিউম’। প্রযোজকেরা এই ৪টি বিভাগের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে তাঁদের প্রয়োজনীয় কলাকুশলী বেছে নেবেন।
টালিগঞ্জের তারকা বিধায়ক ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, “হীরালাল সেনের আমল থেকে এই বাংলা হলো সিনেমার রাজ্য। অথচ গত ৪-৫ মাসে এখানে নতুন একটাও সিনেমা নথিভুক্ত হয়নি! গত কয়েক বছরে টলিউডের সুস্থ সংস্কৃতিতে ছেদ পড়েছে।” তিনি স্পষ্ট করে দেন, নতুন ব্যবস্থায় টলিউড থেকে ‘ব্যান কালচার’ চিরতরে মুছে যাবে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকে কাজ পাবেন। এর পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের দুর্নীতি এবং টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের কার্ড পাইয়ে দেওয়ার চক্র রুখতে বড়সড় স্ট্র্যাটেজি নিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার। পাপিয়া অধিকারী ঘোষণা করেন, টলিউডে এবার এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর মাধ্যমে কারা কাজ না জেনেও স্রেফ রাজনৈতিক প্রভাবে বা টাকার বিনিময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে ঢুকেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হবে। শোষণকারী ও সিন্ডিকেটের চাঁইদের হুঁশিয়ারি দিয়ে পাপিয়া অধিকারী বলেন: “যাঁরা এতদিন ধরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে শোষণ করে এসেছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ কলাকুশলীদের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছেন, কাজ কেড়ে নিয়েছেন— তাঁরা দয়া করে নিজেরাই এবার টলিউড থেকে সরে যান। এখানে আপনাদের আর কোনও জায়গা হবে না। ‘ডি কিউব’ (D3)-এ তো মাত্র কয়েকজনের নাম বলেছি, এমন বহু শোষকের নাম আমার কাছে জমা পড়েছে।”
তিনি আরও জানান, বহিরাগতরা এসে টলিউডের উপার্জন নষ্ট করেছে। যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে, সেই সমস্ত নথিপত্র ও কাগজ এখনই পুলিশ বা প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। অভিযুক্তদের আত্মশুদ্ধি ও সরে যাওয়ার জন্য শেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, অন্যথায় প্রশাসন আইনানুগ কড়া ব্যবস্থা নেবে।






