চাবি পেয়েই মমতার চেয়ারে বসলেন ঋতব্রত, সত্যিটা জানতেই ছিটকে উঠলেন নতুন বিরোধী দলনেতা
বসবেন না মমতার আসনে! ‘নতুন তৃণমূল’ গঠন করেও কেন নেত্রীর চেয়ার ছুঁতে ভয় পেলেন বিদ্রোহী ঋতব্রত?
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় ক্ষমতা বদলের পর, বুধবার আরও এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। ৫৮ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়কের সই করা চিঠিতে স্পিকারের সিলমোহর পড়তেই বিধানসভার অন্দরে অফিশিয়ালি ‘আসল তৃণমূল’-এর মর্যাদা পেয়ে গিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই স্বীকৃতি মেলার পরই বিধানসভার সচিবের সম্মতিতে নতুন বিরোধী দলনেতার ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয় ঋতব্রতর হাতে। নিজের সঙ্গী বিধায়কদের পথ দেখিয়ে রাজকীয়ভাবে সেই ঘরে প্রবেশ করেন তিনি। কিন্তু ঘরে ঢোকার ঠিক পরেই ঘটে যায় এক চরম নাটকীয় কাণ্ড, যা নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
“ওটা মমতার চেয়ার!” শোনামাত্রই তড়িৎ গতিতে লাফ
ঘরে ঢুকেই বিরোধী দলনেতার জন্য নির্দিষ্ট প্রধান চেয়ারটিতে বসে পড়েছিলেন ঋতব্রত। কিন্তু বসার প্রায় পর মুহূর্তেই ঘরের কর্মচারীরা তাঁকে জানান, ওই চেয়ারটি আসলে এত দিন ব্যবহার করতেন খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই কথাটি কান কাঁপিয়ে শোনামাত্রই যেন তড়িতাহত হলেন একদা সিপিএমের এই ডাকাবুকো যুব নেতা! অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে বিদ্যুৎ গতিতে সেই চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে উঠে দাঁড়ান তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত আসনে বসতে একপ্রকার সাফ নাকচ করে দেন নতুন বিরোধী দলনেতা।
এর পরই নিজের পুরনো রাজনৈতিক সত্ত্বাকে মনে করিয়ে দিয়ে ঋতব্রত বিধানসভার কর্মীদের কাছে এক অদ্ভুত ‘আবদার’ করে বসেন। তিনি বলেন, ওই ঘরে যদি বাম জমানার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্রের ব্যবহৃত কোনও চেয়ার থাকে, তবে যেন সেটি এনে দেওয়া হয়। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে সূর্যবাবুর সেই ঐতিহাসিক চেয়ারটি আনা সম্ভব হয়নি, তবে তড়িঘড়ি নতুন বিরোধী দলনেতার জন্য বিকল্প একটি আসনের বন্দোবস্ত করে দেন বিধানসভার কর্মীরা।
‘মমতা ভাল, অভিষেক খারাপ’ তত্ত্বে অনড় বিদ্রোহীরা
চেয়ার নিয়ে যতই টানাপোড়েন হোক না কেন, বুধবারের মেগা সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দলবল বারবার একটা বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁদের লড়াই মমতার বিরুদ্ধে নয়, বরং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ঋতব্রত কড়া সুরে বলেন, “অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার তৃণমূলের যে পরিষদীয় দল, তার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও সম্পর্ক নেই।” তবে তাঁরা এখনও চান, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন এই নতুন দলের ‘প্রধান পরামর্শদাতা’ বা মেন্টরের ভূমিকা পালন করেন।
৪ মে-র ফলপ্রকাশ এবং সুপ্রিমোর দুঃস্বপ্ন
প্রসঙ্গগত, গত ৪ মে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিনই বাংলায় বয়ে গিয়েছিল তীব্র ‘গেরুয়া ঝড়’। সেই ঝড়ে ঘাসফুল শিবির যে নুইয়ে পড়েছে এবং দলের ভেতরে একটা চোরাস্রোত বইছে, তা বোধহয় টের পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। তাই নির্বাচনের পর বারবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, কারও দলত্যাগের ইচ্ছা থাকলে তিনি দল ছাড়তেই পারেন। কিন্তু ভোটের ফলপ্রকাশের মাত্র এক মাসের মাথায় যে তাঁর তিল তিল করে গড়ে তোলা পরিষদীয় দলের ‘আসল মালিকানা’ হাতছাড়া হয়ে যাবে, তা হয়তো মমতা স্বপ্নেও ভাবেননি।
আজ সেই মালিকানা ছিনিয়ে নিয়ে ঋতব্রত যখন সদর্পে বলছেন, “আজ থেকে বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যাত্রা শুরু,” তখন আদি তৃণমূলের মনোনীত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় অবশ্য ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে দাবি করেছেন, “পরিষদীয় দলে যাই হোক না কেন, তৃণমূলনেত্রীর পাশে রাজ্যের মানুষ আজও রয়েছেন।” এখন এই ‘চেয়ার’ ও ‘মালিকানা’র লড়াই আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে আর কী কী নাটক উপহার দেয়, সেটাই দেখার।





