দেশ

দিল্লির বুকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! রেস্তোরাঁয় দাউ দাউ আগুনে মৃত অন্তত ২০, প্রাণে বাঁচতে লাফ মহিলার

দিল্লিতে শিউরে ওঠার মতো বিপর্যয়! সকাল সকাল রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ আগুন, জীবন্ত পুড়ে মরলেন ২০ জন!

Truth of Bengal: সকালের ব্যস্ততার মাঝেই দেশের রাজধানী দিল্লির বুকে ঘটে গেল এক বুক কাঁপানো ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। দক্ষিণ দিল্লির অত্যন্ত জনবহুল এলাকা মালব্যনগরের (Malviya Nagar) একটি বহুতল ভবনে আচমকাই আগুন লেগে যাওয়ার ফলে এই মারাত্মক বিপর্যয়টি ঘটেছে। প্রাথমিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই অন্তত ২০ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর খবর মিলেছে। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ মালব্যনগরের হউজ রানি এলাকার একটি পাঁচতলা বাড়ির বেসমেন্টে অবস্থিত ‘লেমন গ্রিন’ (Lemon Green) নামের একটি নামী রেস্তোরাঁ থেকে প্রথম কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন গোটা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে চারদিকে তীব্র আতঙ্ক ও হাহাকার শুরু হয়ে যায়।

সরু গলির চক্রব্যূহে আটকা পড়ল ৪০টি প্রাণ!

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হউজ রানি এলাকার যে বহুতলটিতে আগুন লেগেছে, সেটি অত্যন্ত সরু একটি গলির ভেতরে অবস্থিত। দুর্ঘটনার সময় ওই পাঁচতলা বাড়িটিতে সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ জন মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ‘লেমন গ্রিন’ রেস্তোরাঁটি বিদেশি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ায়, সেখানে সব সময়ই দেশি-বিদেশি খদ্দেরদের ভিড় লেগে থাকত।

আগুন লাগার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে দমকলের অন্তত ১০টি ইঞ্জিন। কিন্তু গলি অত্যন্ত সরু হওয়ায় প্রথম দিকে উদ্ধারকাজ চালাতে দমকল কর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়। দমকলের যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বহুতলটির বেসমেন্ট থেকে এখনও পর্যন্ত তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তবে চিকিৎসাধীন ওই ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে ঠিক কেমন, তা হাসপাতাল সূত্রে এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।

ধোঁয়া নাকি শর্ট সার্কিট? কারণ খুঁজতে তদন্তে পুলিশ

ঘটনাস্থলে এখনও দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন কাজ করছে এবং ভবনের ভেতরে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা দেখতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে এই আগুন লেগেছে নাকি এর নেপথ্যে কোনও বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

দিল্লি পুলিশ এবং দমকল বিভাগ যৌথভাবে এই দুর্ঘটনার আসল কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। চোখের নিমেষে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের অকাল মৃত্যুতে গোটা মালব্যনগর চত্বরে এখন কান্নার রোল, নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।