এক ঝটকায় সব শেষ! বাংলার সমস্ত দলীয় কমিটি ও শাখা সংগঠন ভেঙে দিল তৃণমূল
জেলা সভাপতি থেকে যুব-ছাত্রনেতা, পদ হারালেন সকলেই! নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত ঘাসফুল শিবিরের
Truth of Bengal: বঙ্গে ক্ষমতা বদল এবং বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে চরম কোন্দল ও মুষলপর্ব শুরু হয়েছিল, তা এবার এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন মোড় নিল। দলের অন্দরের ফাটল এবং একের পর এক বিধায়কের দলত্যাগের মাঝেই এবার এক চরম প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। এক সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত মূল কমিটি (Parent Body) এবং তার অধীনস্থ যুব, ছাত্র বা মহিলা-সহ সমস্ত ধরনের ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশন বা শাখা সংগঠন অবিলম্বে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে দেওয়া হল। দলীয় স্তরে নেওয়া এই মারাত্মক পদক্ষেপের জেরে এক লহমায় পদ হারালেন রাজ্যের সমস্ত স্তরের ব্লক সভাপতি, জেলা সভাপতি ও শীর্ষ নেতৃত্ব।
কেন এই নজিরবিহীন ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’?
তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে দল এবার এক গভীর আত্মদর্শন বা আত্মসমীক্ষার (Introspection) পথে হাঁটতে চলেছে। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকটি স্তরের নেতা-কর্মীদের কাজের খতিয়ান, ভোটের ফলাফল এবং তাঁদের পারফরম্যান্স অত্যন্ত কড়াভাবে রিভিউ করা হবে।
সাংগঠনিক এই মূল্যায়নের (Organisational Assessment) পরেই বোঝা যাবে যে কোন কোন নেতা দলের প্রতি অনুগত ছিলেন আর কারা তলে তলে অন্য শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। এই পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে মূল দল এবং সমস্ত অনুগামী শাখা সংগঠনগুলির নতুন কমিটি গঠন করা হবে এবং তা যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে।
নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর মরণপণ লড়াই
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬০ জন বিধায়ক যখন ‘নতুন তৃণমূল’ গড়ে স্পিকারের কাছে প্রতীক দাবি করছেন এবং দলের সংগঠন যখন তাসের ঘরের মতো ভাঙছে, ঠিক তখনই দল বাঁচানোর শেষ মরিয়া চেষ্টা হিসেবে এই ‘অল-আউট’ চাল চাললেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরনো ও বিতর্কিত নেতাদের এক ঝটকায় সরিয়ে দিয়ে পুরো দলটাকে খোলনলচে বদলে ফেলাই এখন প্রধান লক্ষ্য কালীঘাটের।
দলের তরফে দেওয়া বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “ভবিষ্যতের সমস্ত রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে দল সম্পূর্ণ নতুন উদ্যম, নতুন শক্তি ও নতুন উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি হতে চায়। আর সেই কারণেই সংগঠনকে আরও মজবুত করতে এই শুদ্ধিকরণের কাজ শুরু হল।” দল ভাঙার এই মহাসঙ্কটের দিনে এই মহানির্ধারণ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কোনও নতুন মোড় আনে কি না, এখন সেটাই দেখার।





