Derjeeling Toy Train: পুজোয় পর্যটকদের জন্য সুখবর, দার্জিলিং দার্জিলিংয়ে ৩ টি নয়া রুটে চলবে টয়ট্রেন
পুজোয় দার্জিলিংয়ে বেড়াতে আসা পর্যটকদের টয় ট্রেনে যাতায়াতের সুযোগ দিতে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ৩টি নতুন রুটে টয় ট্রেন চালাবে।
Truth of Bengal: শীত, গ্রীষ্ম হোক কিংবা বর্ষা, বছরের নানান সময় পাহাড়ের রানি দার্জিলিং পর্যটকদের সামনে অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মেলে ধরে। পাহাড়ের রানি দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সর্পিল পথ পেরিয়ে কু ঝিকঝিক করতে করতে চলে টয় ট্রেন (Derjeeling Toy Train) । দার্জিলিংয়ের টয় ট্রেনের পোশাকি নাম হল দার্জিলিং হিমালয়ান রেল (ডিএইচআর)।
পুজোর ছুটিতে অনেকেরই গন্তব্য হয় দার্জিলিং। পুজোয় দার্জিলিংয়ে বেড়াতে আসা পর্যটকদের টয় ট্রেনে যাতায়াতের সুযোগ দিতে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ৩টি নতুন রুটে টয় ট্রেন চালাবে। ৩টি স্বল্প দূরত্বের রুটে টয় ট্রেন চলবে। নয়া রুট হল সুকনা থেকে রংটং, কার্শিয়াং থেকে মহানদী আর কার্শিয়াং থেকে টুং। পুরোদস্তুর নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত টয় ট্রেনে যাতায়াতের দূরত্ব হল ৮৮ কিমি। ৭ ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু অনেক পর্যটক এতটা সময় টয় ট্রেনে যাতায়াতের জন্য চাপতে চান না। কিন্তু তাঁদের ইচ্ছে থাকে দার্জিলিং বেড়াতে এসে টয় ট্রেনে চাপার।(Derjeeling Toy Train)
[আরও পড়ুনঃ Bihar: বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে একযোগে শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে]
তাঁদের ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে চাপার সুযোগ করে দিতে এই নয়া রুটে টয় ট্রেন চালানো হবে। এই স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে টয় ট্রেনে চেপে পর্যটকরা মহানন্দা অভয়ারণ্যের বন্য সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। আবার টয় ট্রেনের ভিস্তা ডোমে চেপে সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত দেখতে পারবেন। সুকনা-রংটং রুটে জঙ্গলে বিভিন্ন রকমের প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণী দেখা যাবে। কার্শিয়াং থেকে টুং ও কার্শিয়াং থেকে মহানদী পর্যন্ত রুটে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা যাবে। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে এখন ১৩টি স্টিম ইঞ্জিন ও ৭টি ডিজেল ইঞ্জিন চালিত টয় ট্রেন চালায়। বহুকাল ধরেই দার্জিলিংয়ের চা গোটা বিশ্বে সুবিখ্যাত। সেই সূত্র ধরে ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের আনাগোনা শুরু হয় শৈল শহর দার্জিলিংয়ে।(Derjeeling Toy Train)
যোগাযোগ ও চা পরিবহণের জন্য ধীরগতির টাঙার বদলে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানির এজেন্ট ফ্রাঙ্কলিন প্রিস্টেজ শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত রেলপথ তৈরির জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব রাখেন ১৮৭৮ সালে। তৎকালীন বাংলার গভর্নর স্যর এশলে এডেনের কাছে দাবি পৌঁছে যায়। সে সময় দেশ জুড়ে রেলপথ সম্প্রসারণের কাজ চলছে। দুর্গম পাহাড়ি পথে রেললাইন বসানো যায় কিনা যাচাই করতে ২টো কমিটি গড়া হয়। সেই কমিটি সবুজ সঙ্কেত দিলে ১৮৭৯ সালে রেললাইনের কাজ শুরু হয়। ইস্ট বেঙ্গল রেলওয়ে আর নর্থ বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি রাজি না হলে স্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানির এজেন্ট ফ্রাঙ্কলিন প্রিস্টেজের প্রস্তাব মতো দার্জিলিং স্টিম ট্রামওয়ে কোম্পানি ২ ফুট চওড়া রেলওয়ে লাইন ন্যারোগেজ নির্মিত হয়।(Derjeeling Toy Train)
লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal
১৮৮১ সালে দার্জিলিং পর্যন্ত রেলপথ তৈরির কাজ শেষ হয়। ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড লিটন রেলপথের উদ্বোধন করেন। সেপ্টেম্বরে সংস্থার নাম রাখা হয় দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে কোম্পানি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দার্জিলিং রেল ভারতীয় রেলওয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি পাওয়া টয় ট্রেনে চেপে দার্জিলিংয়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে তাতে সওয়ার হন দেশবিদেশের পর্যটকরা। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ টয় ট্রেনে চেপেছেন স্বামী বিবেকানন্দ, ভগিনী নিবেদিতা, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ, শিল্পাচার্য অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, জগদীশচন্দ্র বসু, পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু, সরোজিনী নায়ডুর মতো যশস্বী ব্যক্তিত্ব।(Derjeeling Toy Train)






