রাজ্যের খবর

পাহাড়ে ফের গুরুং-বিস্তার ‘জুটি’! কার্শিয়াংয়ের মিছিলে এককাট্টা হয়ে জিটিএ দখলের হুঙ্কার

এই যৌথ শক্তি প্রদর্শন থেকে আগামী দিনে জিটিএ (GTA) দখলেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই দুই নেতা।

Truth of Bengal: পাহাড়ের রাজনীতিতে ফের নতুন সমীকরণের আভাস। বৃহস্পতিবার কার্শিয়াং শহরে বিজেপির প্রার্থী সোনম লামার মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিশাল এক মিছিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে দীর্ঘ সময় পর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটতে দেখা গেল দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রধান বিমল গুরুংকে। এই যৌথ শক্তি প্রদর্শন থেকে আগামী দিনে জিটিএ (GTA) দখলেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই দুই নেতা।

এবারের নির্বাচনে পাহাড়ে বিজেপি ও মোর্চার মধ্যে নতুন আসন সমঝোতা হয়েছে। কালিম্পং ও কার্শিয়াং আসনে বিজেপি তাদের নিজস্ব প্রার্থী দিলেও দার্জিলিং আসনটি ছাড়া হয়েছে মোর্চাকে। তবে স্থির হয়েছে, মোর্চার প্রার্থী বিজেপির প্রতীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এদিনের মনোনয়ন মিছিল শেষে জনসভা থেকে বিমল গুরুং ও রাজু বিস্তা সরাসরি আক্রমণ শানান অনিত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (BGPM)-র বিরুদ্ধে।

রাজু বিস্তা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন, পাহাড়ের মানুষ আজও নরেন্দ্র মোদির পাশেই আছেন। তিনি বলেন, “পাহাড়বাসীর উচ্ছ্বাস বলে দিচ্ছে এবারও বিজেপিই জিতবে। বিধানসভা জয়ের পর আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য জিটিএ দখল করা।” অন্যদিকে, অনিত থাপার দলের প্রার্থী অমর লামাকে ‘প্রত্যাখ্যাত’ বলে কটাক্ষ করেন বিমল গুরুং। তিনি জানান, ১৯৮৬ সাল থেকে তিনি কোনো নির্বাচনে হারেননি এবং গতবারের ভুল শুধরে এবার জোটবদ্ধভাবে লড়াই করায় জয় নিশ্চিত। গুরুং আরও জানান, অজয় এডওয়ার্ড জোটে আসতে চাইলেও তা শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি, তবে কালিম্পং বাদে বাকি দুই আসনে সহজ জয়ের আশা করছেন তিনি।

তবে এদিনের মিছিলে বিজেপির অন্যতম দীর্ঘকালীন সঙ্গী জিএনএলএফ (GNLF)-এর অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। দলের বিদায়ী বিধায়ক নীরজ জিম্বা টিকিট না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েই কি জিএনএলএফ দূরত্ব তৈরি করছে? এই প্রশ্নে দলের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। ফলে পাহাড়ের ত্রিমুখী না কি চতুর্মুখী লড়াই হবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সব মিলিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন থেকেই পাহাড়ের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।

Related Articles