স্তব্ধ হরমুজ প্রণালী,যুদ্ধের আবহে ভারতকে কি বাণিজ্যিক চাপে ফেলছে আমেরিকা?
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সক্রিয় হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
Truth Of Bengal: ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ব তেলবাজারে অনিশ্চয়তার কালো ছায়া নেমে এসেছে। ‘তৈল ধমনী’ নামে পরিচিত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করেছে তেহরান। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, হরমুজ দিয়ে কোনও জাহাজ চলাচল করলে তা লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এই পদক্ষেপে ভারত-সহ বহু দেশ চরম উদ্বেগে পড়েছে, কারণ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথের উপর নির্ভরশীল।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সক্রিয় হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলিকে নিরাপত্তা দেবে। একই সঙ্গে আর্থিক সুরক্ষার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের নির্দেশে United States Development Finance Corporation হরমুজ দিয়ে যাতায়াতকারী সামুদ্রিক বাণিজ্য, বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহণে আর্থিক গ্যারান্টি দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুরক্ষা মূলত আমেরিকার জন্য নির্ধারিত তেলবাহী জাহাজগুলির ক্ষেত্রেই কার্যকর হতে পারে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার প্রভাব ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারে পড়েছে। তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে। বহু আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থা ঝুঁকি এড়াতে ওই পথে চলাচল করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে। ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ভারত। যদিও সরাসরি ইরান থেকে তেল আমদানি তুলনামূলক কম, তবুও ভারতের মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি তেল আমদানি করতে হয়। তার প্রায় অর্ধেকই হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে। ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কুয়েতের মতো দেশ থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ভারতে পৌঁছয় এই পথ দিয়ে। এছাড়া তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশও আসে একই রুটে। ফলে এই জলপথ বন্ধ থাকলে জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটতে পারে।
শুধু আমদানি নয়, রপ্তানিতেও বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সার-সহ বিভিন্ন পণ্য এই পথ দিয়েই বিদেশে পাঠায় ভারত। সাপ্লাই চেন ব্যাহত হলে দেশের অর্থনীতিতে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। সম্প্রতি আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। যদি অন্য দেশগুলির সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হয়, তবে নয়া দিল্লির উপর আমেরিকার নির্ভরতা বাড়তে পারে। সেই ক্ষেত্রে কৃষিপণ্য-সহ বিভিন্ন পণ্যে আমেরিকার আমদানি বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যা ভারতের পক্ষে কতটা লাভজনক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।





