ইরানকে ১৫ দফার প্রস্তাব আমেরিকার! তবে কি যুদ্ধবিরতির পথে ট্রাম্প সরকার?
Truth of Bengal: ইরানের সঙ্গে অন্তত এক মাসের যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটতে পারে আমেরিকা, এমনই ইঙ্গিত মিলেছে আন্তর্জাতিক মহলে। ওই সময়ের মধ্যেই আমেরিকার পাঠানো প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইতিমধ্যেই ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে আমেরিকা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত দু’দিন ধরে বারবার দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার আলোচনা চলছে। তাঁর কথায়, ইরানের “সঠিক লোকদের” সঙ্গেই যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এমনকি ট্রাম্প এ-ও দাবি করেছেন, যুদ্ধ শেষ করতে তেহরান নাকি অত্যন্ত আগ্রহী। এই পরিস্থিতিতেই প্রকাশ্যে এসেছে আমেরিকার ওই ১৫ দফা প্রস্তাবের খবর।
ইজ়রায়েলের ‘চ্যানেল ১২’-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবেই ইরানের কাছে এই প্রস্তাব পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা থেকে শুরু করে হরমুজ় প্রণালী খোলা রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই প্রস্তাব নিয়ে ইজ়রায়েলের উদ্বেগও সামনে এসেছে।
মার্কিন প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন আমেরিকার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার। ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ আরও জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে এই প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, ইরান-আমেরিকা আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে তাদের দেশ প্রস্তুত।
আমেরিকার প্রস্তাব নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। বিভিন্ন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ‘চ্যানেল ১২’ জানিয়েছে, ১৫টির মধ্যে অন্তত ১৪টি শর্তের কথা জানা গিয়েছে। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-
- ইরানকে তার বর্তমান পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে হবে
- পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না-করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে
- ইরানের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে
- মজুত থাকা ৪৫০ কেজি ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-র হাতে তুলে দিতে হবে
- নাতান্জ, ইস্পাহান ও ফোরডো- এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্র ভেঙে ফেলতে হবে
- IAEA-কে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নজরদারির অধিকার দিতে হবে
- ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলিকে কোনও রকম ছায়াযুদ্ধে জড়াতে দেওয়া যাবে না
- ওই সব গোষ্ঠীকে অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে
- হরমুজ় প্রণালী সবসময় খোলা রাখতে হবে
- ইরানের অস্ত্রভান্ডার সীমিত রাখতে হবে
- ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে (পরে নির্ধারিত হবে)
- ক্ষেপণাস্ত্র কেবল আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহার করা যাবে
তবে এই কঠোর শর্তের পাশাপাশি কিছু সুবিধার কথাও বলা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকার প্রস্তাবে রাজি হলে ইরানের উপর থাকা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে। এছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যদিও তার বিস্তারিত এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে ইজরায়েল মনে করছে, এই প্রস্তাব মানলে ইরান তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে। যদিও ইরান এই শর্তগুলি কতটা গ্রহণ করবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিন জ়লফাগারি কটাক্ষ করে বলেছেন, আমেরিকা নাকি “নিজেদের সঙ্গেই চুক্তি করতে চাইছে”!






