হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের আঁচ! বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় সংসদে বড় বার্তা মোদির
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই পরিস্থিতির কথা স্বীকার করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
Truth of Bengal: পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধের প্রভাবে কার্যত তালা পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী। এর জেরে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বিশ্বজুড়ে, যার প্রভাব পড়েছে ভারতেও। সোমবার সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই পরিস্থিতির কথা স্বীকার করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের বড় অংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। যুদ্ধের জেরে এই রুট এখন ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও আমরা চেষ্টা করছি যাতে পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের সরবরাহে কোনও বড় প্রভাব না পড়ে। তিনি আরও জানান, গত কয়েক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাতেও পড়তে পারে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সতর্ক ও সক্রিয় রয়েছে বলেই আশ্বাস দেন তিনি।
সংসদে মোদি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বিদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনতে জোরকদমে কাজ করছে সরকার। এখনও পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৭৫ হাজারেরও বেশি ভারতীয়কে দেশে ফেরানো হয়েছে। শুধু ইরান থেকেই ফিরিয়ে আনা হয়েছে এক হাজারের বেশি মানুষ। বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাসগুলিকে ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রাখা হয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের ভিতরে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে এবং পেট্রোল-ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কয়লা, এলপিজি ও এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রেও বৈচিত্র আনা হয়েছে। বর্তমানে ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করছে ভারত। এছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বৈদ্যুতিক পরিবহণ ব্যবস্থায় জোর দিচ্ছে সরকার। মেট্রো ও রেলের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে ইলেকট্রিক বাস দেওয়া হয়েছে। সৌর শক্তি উৎপাদন এবং পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, গ্রীষ্মের সময় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে, তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত কয়লার মজুত রয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে রবিবারই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মোদি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান-সহ একাধিক শীর্ষমন্ত্রী। বৈঠকে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থার কারণে জ্বালানি আমদানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার সরবরাহে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চলতে থাকলে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের উপর তার প্রভাব আরও বাড়তে পারে। যদিও আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর কেন্দ্র, তবুও আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার ছায়া ভারতের অর্থনীতিতেও পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।






