পাথরপ্রতিমায় শিউরে ওঠা হত্যাকাণ্ড! পারিবারিক বিবাদের জেরে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুপ প্রসাদ পেশায় একজন পরিযায়ী শ্রমিক।
Truth Of Bengal: গোপাল শীল, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার শান্ত জনপদ দক্ষিণ দুর্গাপুরে ঘটে গেল এক শিউরে ওঠা হত্যাকাণ্ড। পারিবারিক বিবাদের জেরে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। মৃত গৃহবধূর নাম অনুপমা হালদার। প্রায় ২২ বছরের দীর্ঘ দাম্পত্যের এমন রক্তাক্ত পরিণতিতে স্তম্ভিত এলাকাবাসী। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত স্বামী অনুপ প্রসাদ হালদারকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুপ প্রসাদ পেশায় একজন পরিযায়ী শ্রমিক। কর্মসূত্রে দীর্ঘ সময় তিনি কেরালায় থাকতেন এবং কয়েক বছর অন্তর বাড়ি ফিরতেন। দীর্ঘ দু’দশকের বেশি সময়ের বিবাহিত জীবনে তাঁদের ২০ বছরের একটি সন্তানও রয়েছে। তবে পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ বছর ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। এই কলহের কারণেই অনুপমা অধিকাংশ সময় বাপের বাড়িতে কাটাতেন। মাস কয়েক আগে অনুপ প্রসাদের মায়ের মৃত্যুর পর তিনি স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু তাতেও বিবাদ মেটেনি, বরং অশান্তি আরও চরমে পৌঁছায়।
অভিযোগ, গত গভীর রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে অনুপ প্রসাদ ধারালো অস্ত্র নিয়ে অনুপমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এলোপাথাড়ি কোপে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অনুপমার। এই নৃশংস হামলার সময় আশেপাশে থাকা প্রতিবেশীরা কোনও চিৎকার বা ধস্তাধস্তির শব্দ পাননি বলে জানিয়েছেন। ফলে ঘটনার বেশ কিছুক্ষণ পর বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ এবং পারিবারিক অশান্তিই এই চরম পরিণতির মূল কারণ। তবে এর নেপথ্যে অন্য কোনও জটিল রহস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত প্রক্রিয়া জারি রেখেছে পুলিশ। একটি সাজানো গোছানো পরিবারের এমন মর্মান্তিক সমাপ্তি পাথরপ্রতিমার জনমনে গভীর শোক ও আতঙ্কের ছায়া ফেলেছে।






