বিশ্বের নজর ইসলামাবাদের দিকে, বৈঠকে বসছে আমেরিকা ও ইরান
আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে পাকিস্তান
Truth Of Bengal: শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে চলা আমেরিকা ও ইরানের ঐতিহাসিক সমঝোতা বৈঠককে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে পাকিস্তানের রাজধানীকে। দুই বিবদমান দেশের এই শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে পাকিস্তান। বৈঠকটি ফলপ্রসূ হবে কি না, তা নিয়ে যখন গোটা বিশ্বের নজর ইসলামাবাদের দিকে, ঠিক তখনই নিরাপত্তার খাতিরে শহরটিকে কার্যত একটি দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করা হয়েছে।
পাক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতর, বিদেশি দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর কার্যালয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভিভিআইপি এলাকাগুলোতে পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং সাধারণ যান চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বৃহস্পতিবার থেকেই দু’দিনের জন্য রাজধানীর সমস্ত স্কুল-কলেজ ও বাজার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
নিরাপত্তার এই কড়াকড়ি শুধু রাজপথেই সীমাবদ্ধ নেই, নজরদারি চালানো হচ্ছে আকাশপথেও। পাক বায়ুসেনার আইএল-৭৮ রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার এবং সি-১৩০ বিমান আকাশে টহল দিচ্ছে। এমনকি ইরানের প্রতিনিধিদলকে যথাযথ সুরক্ষা দিয়ে নিয়ে আসার জন্য ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় পাক বায়ুসেনার বিমানের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসীন নকভি মার্কিন প্রতিনিধিদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও, হোয়াইট হাউসের প্রাক্তন প্রেস সচিব আরি ফ্লিশার পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
ইসলামাবাদের হোটেল সেরেনায় আয়োজিত এই বৈঠককে ঘিরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে যেমন শান্তির আশা উঁকি দিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই নিরাপত্তার এই বিশাল আয়োজন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি— সব মিলিয়ে সমঝোতা বৈঠকের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক জটিল ও সংবেদনশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।






