নেপালের পর এবার ভুটান! হিমবাহ হ্রদ ফেটে তীব্র হড়পা বান, প্লাবিত হতে পারে বাংলা ও অসম
মাঝরাতে ভেঙে পড়ল প্রাকৃতিক বাঁধ! সঙ্কোশ নদীতে বাঁধভাঙা জল, চরম সতর্কবার্তা উত্তরবঙ্গে
Truth of Bengal: মাস দুই আগে নেপালে হিমবাহ হ্রদ ফেটে ঘটে যাওয়া ভয়াল বিপর্যয়ের স্মৃতি এখনও টাটকা। সেই আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই এবার হিমালয়ের কোলে অবস্থিত আরেক প্রতিবেশী দেশ ভুটানে ঘটল একই রকম মারাত্মক বিপর্যয়। উত্তর-পশ্চিম ভুটানের গাসা জেলায় একটি হিমবাহ ধসে ভেঙে পড়েছে শিন্তাফু হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ। ভৌগোলিক ভাষায় যাকে বলা হয় ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’ (GLOF)। হ্রদের বাঁধ ভাঙা বিপুল জলরাশি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে মোফু নদী হয়ে ভারত অভিমুখে সঙ্কোশ নদীর দিকে ধেয়ে আসছে। এর ফলে ওপার বাংলা অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ এবং অসমের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভুটানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, গত বৃহস্পতিবার গভীর সন্ধ্যার দিকে আচমকাই গাসা জেলার শিন্তাফু হ্রদে বিশাল ধস নামে। রাতের অন্ধকারেই ফুলেফেঁপে ওঠা মোফু নদীর ভয়ংকর পাহাড়ি ঢলে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায় নিকটবর্তী গাসা তশাচুর অঞ্চলের একাধিক আবাসন ও প্রশাসনিক ইমারত। প্রসঙ্গত, মোফু নদীর উৎসস্থলে অবস্থিত এই শিন্তাফু হ্রদটি ভুটানের ১৭টি অতীব বিপজ্জনক ও স্পর্শকাতর হিমবাহ হ্রদের তালিকায় অন্যতম শীর্ষে রয়েছে। এর আগেও ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট এখানে বড়সড় আকস্মিক বন্যা হয়েছিল, যার ফলে গাসা সাচু উষ্ণ প্রস্রবণ এলাকা সম্পূর্ণ ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যায় এবং মোফু নদী নিজের গতিপথ বদলে ফেলেছিল। রাতের অন্ধকারে বিপর্যয় ঘটায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়, তবে শুক্রবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সঠিক পরিস্থিতি জানা যাবে।
ভুটানে এই দুর্যোগ শুরু হওয়ার পরপরই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পশ্চিমবঙ্গ ও অসম সরকারকে সতর্ক করেছে ভুটান প্রশাসন। ভুটান থেকে নেমে আসা সঙ্কোশ ও মোফু নদীর অববাহিকায় থাকা সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে আকস্মিক বন্যার (Flash Flood) চরম ঝুঁকি রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলা এবং অসমের ধুবড়ি জেলায় প্রশাসনের তরফে কড়া নজরদারি ও মাইকিং শুরু করা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।





