ফ্রান্সের বিক্ষোভে এ বার সুপারহিরোরা, যোগ দিলেন ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’
প্যারিসের বিক্ষোভস্থল থেকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, ব্ল্যাক প্যান্থার ও ক্যাপ্টেন আমেরিকার পোশাক পরা দু’জনকে ঘিরে রয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
Truth of Bengal: ফ্রান্সের রাস্তায় বিক্ষোভের উত্তাপ। তারই মধ্যে প্রতিবাদীদের ভিড়ে দেখা মিলছে একের পর এক সুপারহিরোর! কেউ ব্ল্যাক প্যান্থার, কেউ ক্যাপ্টেন আমেরিকা, আবার কারও সাজ স্পাইডারম্যান কিংবা সুপারম্যানের। পুলিশের ব্যারিকেড, জলকামান আর কাঁদানে গ্যাসের আবহে তাঁদের কর্মকাণ্ডের ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। দেখে মনে হচ্ছে, সিনেমার পর্দা ছেড়ে যেন বাস্তবের আন্দোলনে নেমে পড়েছে সুপারহিরোরা!
প্যারিসের বিক্ষোভস্থল থেকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, ব্ল্যাক প্যান্থার ও ক্যাপ্টেন আমেরিকার পোশাক পরা দু’জনকে ঘিরে রয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের সঙ্গে ছবি তুলছেন অনেকে। এর পর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে স্লোগান দিতেও দেখা যায় তাঁদের। আশপাশে নিরাপত্তারক্ষীরা ব্যারিকেড দিয়ে এলাকা ঘিরে রেখেছেন। শুধু সুপারহিরোই নয়, এর আগেও ফ্রান্সের রাস্তায় নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এবং ব্যাটম্যানের সাজে মানুষের উপস্থিতির ভিডিয়ো সামনে এসেছে।
তবে এই অভিনব সাজের আড়ালে রয়েছে গভীর অসন্তোষ। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ এবং শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কমে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে তীব্র হয়েছে বিক্ষোভ। সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানাতে রাস্তায় নেমেছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় চার লক্ষ দশ হাজার মানুষ। শুধু প্যারিসেই জমায়েত হয়েছিল প্রায় এক লক্ষ দশ হাজার। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। প্রায় এক হাজার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অনেকের মুখে মাস্ক, চোখে সুরক্ষাচশমা এবং মাথায় হেলমেট। পুলিশের লাঠিচালনা কিংবা কাঁদানে গ্যাসের প্রভাব থেকে নিজেদের বাঁচাতেই এই প্রস্তুতি বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু এবং আতশবাজি ছোড়ার অভিযোগ তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ।
গত সপ্তাহে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সরকার। তবে আদালত একই দিনে সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয়। তার পরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। প্যারিস-সহ একাধিক শহরে নতুন করে সংঘর্ষের খবর মিলেছে। পুলিশের তরফে ধাতব বল, গুলতি, আতশবাজি এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানানো হয়েছে।
ফ্রান্সের এই আন্দোলনের আঁচ পড়েছে ইউরোপের অন্য দেশগুলিতেও। ইতালি, আলবেনিয়া, স্পেন এবং পর্তুগালেও জীবনযাত্রার খরচ ও অন্যান্য সমস্যা নিয়ে বিক্ষোভের খবর সামনে এসেছে।
সব মিলিয়ে, সুপারহিরোদের বিচিত্র উপস্থিতি বিক্ষোভের ছবিকে আকর্ষণীয় করে তুললেও, তার নেপথ্যে রয়েছে মানুষের জীবনযাত্রার চাপ, আর্থিক উদ্বেগ এবং সরকারের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভ।






