চাকরির টোপ দিয়ে ১০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ! গভীর রাতে গ্রেফতার মমতা-তৃণমূল নেতা অজিত মাহাতো
টাকা ফেরত চাইতে গেলেই প্রাণনাশের হুমকি! তৃণমূল নেতার কীর্তিতে ফাঁস হল বিরাট চাকরির র্যাকেট
Truth of Bengal: সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে সাধারণ বেকার যুবকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের জেরে চরম অস্বস্তিতে শাসক শিবির। বনদফতরে স্থায়ী সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অজিত মাহাতোকে গভীর রাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঝাড়গ্রামের নিজস্ব বাসভবন থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। শুক্রবার ধৃত নেতাকে স্থানীয় আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পুরো ঘটনার সূত্রপাত বেশ কিছুদিন আগে। ঝাড়গ্রামের বাছুরডোবা এলাকার বাসিন্দা সজল দাস নামের এক যুবক অজিত মাহাতোর বিরুদ্ধে থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সজলের অভিযোগ, অভিযুক্ত অজিত মাহাতো স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব এবং রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আমলা ও আধিকারিকদের সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের কথা জাহির করে তাঁকে বনদফতরে একেবারে পাকা ও স্থায়ী চাকরির আশ্বাস দেন। সেই বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের বিভিন্ন সময়ে চার দফায় মোট ১০ লক্ষ নগদ টাকা অভিযুক্তের হাতে তুলে দিয়েছিলেন সজল।
কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরি পাওয়ার কোনও লক্ষণ না দেখা দেওয়ায় সজল দাস নিজের দেওয়া টাকা ফেরত চান। অভিযোগ, টাকা ফেরত দিতে তো অস্বীকৃতি জানানোই হয়, উলটো তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত আরও ২ লক্ষ টাকা চাঁদা হিসেবে দাবি করা হয়। শুধু সজল একাই নন, অভিযোগকারীর দাবি, এই প্রতারক চক্রের মূল পান্ডা অজিত মাহাতো ঠিক একই কায়দায় আরও বহু বেকার যুবকের কাছ থেকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেছেন।
ভুক্তভোগী যুবকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখার পর বৃহস্পতিবার রাতে আচমকাই অজিত মাহাতোর বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ দল এবং তাঁকে নিজ বাসভবন থেকেই গ্রেফতার করা হয়। এই চাকরি বিক্রির চক্রের সঙ্গে স্থানীয় স্তরে আর কে বা কারা জড়িত রয়েছে এবং এই কালো টাকার উৎস কোথায়, তা খতিয়ে দেখছে ঝাড়গ্রাম থানার তদন্তকারী অফিসাররা।




