আমেরিকার সিয়াটলে ‘ঐক্যতান’-এর জমজমাট দুর্গা আরাধনা
এবছরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের বৃহত্তম শহর সিয়াটেলের প্রবাসী বাঙালিরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে জগত জননী মা দুর্গার আরাধনা করলেন
তরুণ মুখোপাধ্যায়, হুগলি: বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজো, সারা পৃথিবী জুড়ে যেখানে যত বাঙালি আছে তারা প্রতিবছর সমস্ত কর্মব্যস্ততা ফেলে মেতে ওঠেন মাতৃ আরাধনায়,তেমনি প্রতিবছরের মতো এবছরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের বৃহত্তম শহর সিয়াটেলের প্রবাসী বাঙালিরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে জগত জননী মা দুর্গার আরাধনা করলেন। সব থেকে বিশেষত্ব এখানকার এই মাতৃপূজায় পুরোহিত্য করেন দুজন মহিলা পুরোহিত, ওখানকার প্রবাসী বাঙ্গালীদের সংস্থা ঐক্যতান এর পূজো এ বছর ৬ বছরের পরলো।

সারা বছরের ব্যস্ততার মাঝে পুজোর কদিন বাঙালি পরিবারগুলি সহ সমস্ত ভারতীয়রা অংশ নিয়েছিলেন এই পুজোয়। এবারের অনুষ্ঠান সম্বন্ধে বলতে গিয়ে ঐক্যতান সংস্থার অন্যতম কর্ণধার অভিজ্ঞান মুখোপাধ্যায় জানালেন কলকাতা শহর থেকে ১১ হাজার ৬৩৫ কিলোমিটার দূরে আমরা রয়েছি। কিন্তু শত কর্মব্যস্ততার মাঝে যখন আশ্বিনের শরতের আকাশে পেঁজা মেঘ আকাশে ঘুরে বেড়ায় সেই সময় মন টা হু হু করে ওঠে দেশের কথা ভেবে কারণ এই আশ্বিনের প্রভাতে শুরু হয় দেবীর আরাধনা, শুরু হয়ে যায় আপামর বাঙালির প্রাণের উৎসব, এত দূরে থেকেও আমরা কিন্তু পুজোর আনন্দ থেকে বঞ্চিত হইনা, কারণ আমাদের সংস্থা ঐক্যতান গত ছবছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠা ভরে এই পুজো করে আসছে । পুরোপুরি শাস্ত্র মতে নিয়ম নিষ্ঠা মেনে এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়।

আমাদের দুই সহকর্মী অন্বেষা চক্রবর্তী এবং প্রিয়াঙ্কা গাঙ্গুলী এখানকার পৌরহিত করেন, অত্যন্ত নিষ্ঠা এবং ভক্তি ভরে এবং সংস্কৃত মন্ত্রাচরণএর মাধ্যমে দেবীকে বরণ করা, করা হয় চণ্ডীপাঠ, পূজোর যা যা নিয়ম সমস্ত একেবারে সুচারুভাবে নিষ্ঠাভরে তারা পালন করেন, আর দুর্গা পুজো মানেই ভুরিভোজ এ ব্যাপারে বাঙালিরা সবার আগে, তাই পুজোর সময় সমস্ত বাঙালি তথা ভারতীয়রা আমরা এক পংক্তিতে আহার করি। তার সঙ্গে চলে নানা ধরনের সংস্কৃতি অনুষ্ঠান, এবছর ও তার ব্যতিক্রম নেই, শুধু ভারতীয়রা নয় এই পুজায় অংশ নেন এখানকার আমেরিকান বন্ধুরা ও একসঙ্গে এই পুজোর আনন্দ উপভোগ করি সবমিলিয়ে দেশে না থেকেও মাতৃ পূজার মাধ্যমে আমরা এই কদিন মনে হয় আমরা দেশের মধ্যেই রয়েছি।






