রাজ্যের খবর

সাতসকালে ইডির মেগা অ্যাকশন! ২৯০ কোটির ব্যাঙ্ক জালিয়াতিতে রাজ্যজুড়ে ম্যারাথন তল্লাশি

২৯০ কোটির ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলায় ইডির মেগা অ্যাকশন! লেকটাউন থেকে উত্তরপাড়ায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের বাড়িতে একযোগে হানা

Truth of Bengal: শুক্রবার সাতসকালে রাজ্যে ফের বড়সড় অ্যাকশন মোডে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ভুয়ো কোম্পানি খুলে কোটি কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ও আর্থিক তছরুপের অভিযোগের তদন্তে উত্তর থেকে দক্ষিণ, একযোগে একাধিক জায়গায় শুরু হয়েছে ইডির ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান। এদিন ভোরেই উত্তর ২৪ পরগনার লেকটাউনে এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের বাড়িতে হানা দেন তদন্তকারীরা। একই মামলার সূত্রে ধরে হুগলির উত্তরপাড়া, দুর্গাপুর এবং হাওড়াতেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি।

ইডি সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডে একটি ৬৬ মেগাওয়াটের মেগা বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপনের নাম করে একটি নামী বেসরকারি সংস্থা ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ২৯০ কোটি টাকার বিপুল অঙ্কের ঋণ নেয়। কিন্তু অভিযোগ, বিদ্যুৎ প্লান্ট তৈরির কাজে সেই টাকা ব্যবহার না করে বিভিন্ন ভূয়ো বা শেল কোম্পানির মাধ্যমে অন্য জায়গায় পাচার করে দেওয়া হয়। তদন্তে উঠে আসে, এই বিরাট আর্থিক অনিয়মের পেছনে লেকটাউনের এক অভিজাত আবাসনের বাসিন্দা পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অশোক সারথির প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে। শুক্রবার সকালে ইডির একটি দল লেকটাউনের ওই আবাসনে পৌঁছায় এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা পুরো আবাসন ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলে। ভিতরে অশোক সারথিকে টানা জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন নথি ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে দেখছেন আধিকারিকরা।

অন্যদিকে, এই ২৯০ কোটির ঋণ জালিয়াতি কাণ্ডের তদন্তে হুগলির উত্তরপাড়ার শিবতলা স্ট্রিটের বাসিন্দা তথা অপর এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট সুদীপ্ত ঘোষের বাড়িতেও একই সঙ্গে হানা দেয় ইডির অপর একটি দল। সাতসকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা সুদীপ্তবাবুর বাড়ি ঘিরে ফেলার পর সেখানেও শুরু হয় নথিপত্র পরীক্ষা। যদিও সুদীপ্ত ঘোষের দাবি, এই আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর কোনও প্রকার যোগ নেই।

শুধুমাত্র লেকটাউন কিংবা উত্তরপাড়াই নয়, ইডি সূত্রে খবর মিলেছে যে এই একই জালিয়াতি চক্রের শিকড়ে পৌঁছাতে দুর্গাপুর ও হাওড়ার বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর ঠিকানাতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে কীভাবে ব্যাঙ্ক থেকে কোটি কোটি টাকার লোন নিয়ে পাচার করা হল এবং এর পেছনে কোন কোন প্রভাবশালী মাথার হাত রয়েছে, তা জানতেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের এই চিরুনি তল্লাশি অভিযান।

Related Articles