“শিক্ষিতরা ভোট দিয়েছেন বলেই তো হেরেছে বিজেপি!” বারাণসীর হার নিয়ে যোগীর মন্ত্রীর বেফাঁস মন্তব্যে শোরগোল
বিধান পরিষদের নির্বাচন মানেই কি শুধু শিক্ষিতদের রায়? ওমপ্রকাশ রাজভরের মন্তব্যে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক!
Truth of Bengal: দেশের চার রাজ্যের মোট ২৮টি বিধান পরিষদ (MLC) আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তাপ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বেশ কয়েকটি রাজ্যের বিপর্যয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের। এর মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের মন্ত্রী তথা শরিক দল ‘সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টি’ (SBSP)-র প্রধান ওমপ্রকাশ রাজভরের এক বিতর্কিত মন্তব্য বিজেপি শিবিরের অস্বস্তি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। দলের হারের সাফাই গাইতে গিয়ে তিনি প্রকাশ্যেই দাবি করেছেন যে, বিধান পরিষদ নির্বাচনে কেবল শিক্ষিত মানুষেরা ভোট দেন বলেই বিজেপি পরাজিত হয়েছে এবং একে কখনই সাধারণ মানুষের জনমত বলা চলে না।
সাম্প্রতিক বিধান পরিষদ নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের মোট ১১টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৬টিতে জয়লাভ করলেও প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি (SP) নিজেদের শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুর্গ হিসেবে পরিচিত বারাণসীর গ্র্যাজুয়েটস এবং টিচার্স, উভয় আসনেই গেরুয়া শিবিরকে হারিয়ে বড় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে অখিলেশ যাদবের দল। এই ফলাফলের পরই সপা প্রধান অখিলেশ যাদব কটাক্ষ করে বলেন, “সমস্ত সরকারি ক্ষমতা ও অসাধু উপায় ব্যবহার করেও শেষরক্ষা করতে পারল না বিজেপি। এবার ওদের ব্যাগ গোছানোর সময় এসে গিয়েছে।” খোদ রাজ্যের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্যও স্বীকার করেছেন যে, সপা এমন কিছু আসনে জয়ী হয়েছে যেখানে তাদের জেতার কথা ছিল না।
এই ভরাডুবির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওমপ্রকাশ রাজভর এক অদ্ভুত যুক্তি সাজিয়েছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমে বলেন, “জনগণ তাদের রায় দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু এটি সম্পূর্ণভাবে শিক্ষিত ভোটারদের রায়, সাধারণ মানুষের নয়।” তাঁর মতে, বিধান পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে আমজনতার রায়ের কোনও মিল নেই। রাজভরের সংযোজন, “মনে রাখবেন, বিধানসভা বা লোকসভা ভোটের সময় এই শিক্ষিত ভোটাররা আর বুথমুখী হন না, তখন কেবল সাধারণ ভোটারদেরই লাইনে দেখা যায়।”
যোগীর মন্ত্রীর এমন খোলামেলা ও বেফাঁস মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে ট্রোল ও হাসাহাসি। বিরোধীরা কটাক্ষ করে বলছেন, মন্ত্রী মহাশয় প্রকারান্তরে সত্যটাই স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাজভরের দ্বিতীয় যুক্তিতে কিছুটা সত্যতা থাকলেও, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের মন্তব্য দলের ভাবমূর্তিকে যে কিছুটা হলেও বিপাকে ফেলছে, তা বলাই বাহুল্য।






