রাজ্যের খবর

মমতা তৃণমূল শিবিরে বর্তমানে কতজন বিধায়ক? শোভনদেবের দাবি ঘিরে তোলপাড়

তৃণমূলে চরম গৃহযুদ্ধ! বিধায়কদের ছেলেদের আটকে সই করানোর মারাত্মক অভিযোগ শোভনদেবের

Truth of Bengal: তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের ঘরোয়া লড়াই ও প্রতীক দখলের টানাপোড়েন এবার চরম আকৃতি ধারণ করেছে। একদিকে সুপ্রিম কোর্ট ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনে দলীয় প্রতীক সংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত শুনানির দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই কালীঘাটপন্থী এবং ক্যামাক স্ট্রিটপন্থী বিধায়কদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হচ্ছে। এরই মাঝে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে একে একে বেশ কয়েকজন বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী হিসেবে কালীঘাট শিবিরে যোগ দেওয়ায় রাজনৈতিক অলিন্দে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। তবে এর মধ্যেই মমতা সমর্থক বিধায়কদের উপর পুলিশি চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন বিধানসভায় মমতা তৃণমূলের দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মমতাদিকে সমর্থন করা বিধায়কদের উপর ভয়ংকর অত্যাচার শুরু হয়েছে। দুজন মহিলা বিধায়ক আমাকে এসে কেঁদে অভিযোগ করেছেন, তাঁদের ছেলেদের পুলিশ থানায় আটকে রেখে ভয় দেখাচ্ছে। বলা হচ্ছে আগে গিয়ে ঋতব্রতদের তালিকায় সই করে এসো, তা না হলে ছেলেদের ছাড়বে না এবং ভুয়ো মামলা দিয়ে অন্তত ছয় মাস জেলে পুরে রাখা হবে!” এরপরই শোভনদেব দাবি করেন, পুজোর মধ্যে ও পরে একাধিক বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং বর্তমানে তাঁদের শিবিরে বিধায়ক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। অর্থাৎ তৃণমূলের জয়ী বিধায়কদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে।

তবে শোভনদেবের এই ২৭ জনের হিসাবের দাবিকে পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছেন ঋতব্রত শিবিরের অন্যতম বিশ্বস্ত নেতা তথা এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। তিনি পাল্টা দাবি করেন, “এই সংখ্যার হিসাব একেবারেই ভিত্তিহীন। দু-একজন এদিক-ওদিক হতে পারে, কিন্তু মমতা শিবিরের সংখ্যা কখনওই ২৭ হতে পারে না।”

এদিকে এই টানাপোড়েনের মধ্যে সবচেয়ে চর্চিত মুখ হাসনের বিধায়ক কাজল শেখ বিজয়ার মিষ্টি মুখ পর্বের পর জানান, “আমার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে আমি এখনও ঋতব্রতকেই মানছি।” এমনকি কাজল শেখের নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও খবর মিলেছে। অন্যদিকে চাকুলিয়ার বিধায়ক মিনহাজুল আফরিন আজাদ মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক এড়িয়ে জানান, তিনি একসময় ঋতব্রতর সমর্থনে সই করলেও এখন হলফনামায় মমতার পক্ষেই সই করেছেন। আবার রথীন ঘোষ কিংবা বিভাস সর্দারের মতো নেতারা প্রকাশ্যে মমতার পক্ষে সওয়াল করলেও তাঁদের নিরাপত্তারক্ষী অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার আগে ঘাসফুল শিবিরের এই গৃহযুদ্ধ যে আরও জটিল রূপ নিচ্ছে, তা নিশ্চিত।

Related Articles