ইনস্টাগ্রামের প্রেম গড়াল ভয়ংকর পরিণতিতে! ডিভোর্সে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীকে চরম ‘শাস্তি’ যুবকের
ডিভোর্সে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীকে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে
Truth of Bengal: সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পরিচয় এবং সেখান থেকেই গভীর প্রেম ও পরিণয়। কিন্তু বছর ঘোরার আগেই সেই সম্পর্কের মর্মান্তিক ও ভয়ংকর পরিণতি প্রত্যক্ষ করল বিহারের মুজফফরপুর জেলা। বিচ্ছেদে বা ডিভোর্সে স্ত্রী রাজি না হওয়ায় তাঁকে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারার মতো নৃশংস অভিযোগ উঠল খোদ স্বামীর বিরুদ্ধে। ২১ বছর বয়সি মৃত ওই তরুণীর নাম দামিনী কুমারী। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রবিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত স্বামী সঞ্জীব শাহকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে, প্রায় দু’বছর আগে জনপ্রিয় সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে সুপৌলের বাসিন্দা সঞ্জীব শাহের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল দামিনীর। সেই অনলাইন পরিচর্যায় প্রেম দানা বাঁধে এবং মাত্র ৯ মাস আগেই তাঁরা আইনসম্মতভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এই দম্পতির সংসারে অশান্তি ও কলহ দানা বাঁধতে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, দামিনীর বিরুদ্ধে আদালতে ডিভোর্সের বা বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন স্বামী সঞ্জীব। কিন্তু স্ত্রীর সাফ কথা ছিল, তিনি কোনওভাবেই এই ডিভোর্সের কাগজে সই করবেন না। পরিবারের অভিযোগ, দামিনীর এই অনড় মনোভাব ও আপসের অস্বীকৃতির জন্যই তাঁকে চিরতরে রাস্তা থেকে সরানোর ছক কষেছিল অভিযুক্ত স্বামী।
পুলিশের কাছে দেওয়া ধৃত সঞ্জীবের প্রাথমিক বয়ান অনুযায়ী, গত শনিবার গভীর রাতে সে দামিনীকে ঘুরতে যাওয়ার নাম করে কোসী বাঁধের দিকে নিয়ে যায়। পথিমধ্যে একটি স্থানীয় দোকান থেকে প্লাস্টিকের বোতলে পেট্রল কেনা হয় এবং সেই পেট্রলের বোতলটি দামিনীর নিজের ব্যাগেই রাখতে বাধ্য করা হয়। এরপর রাত দশটা নাগাদ লালমনপাট্টির নিকটবর্তী একটি নির্জন খালের ধারে স্ত্রীকে নিয়ে গিয়ে অতর্কিতে তাঁর গায়ে সেই পেট্রল ঢেলে দেয় সে। এরপর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে দেশলাই জ্বেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় পাষণ্ড স্বামী।
এদিকে জ্বলন্ত শরীরে ওই তরুণীকে আর্তনাদ করে ছুটতে দেখে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ পুলিশ এবং অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেন। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে রবিবার সকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন দামিনী। ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফরেন্সিক দল দাহ্য পদার্থের নমুনা সংগ্রহ করে। মৃতার পরিবারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত স্বামী সঞ্জীব শাহকে গ্রেফতার করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর বাবা কিনু সাহকেও আটক করেছে। জ্যেষ্ঠ পুলিশ আধিকারিক পবন কুমার জানিয়েছেন, গোটা ঘটনার নিখুঁত তদন্ত শুরু হয়েছে।






