দেশ

Delhi Pollution: দীপাবলির সকালেই ‘বিষাক্ত’ দিল্লি! দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে রাজধানী

সকাল ৮টায় দিল্লির সামগ্রিক বায়ু গুণমান সূচক (AQI) রেকর্ড করা হয়েছে ৩৩৫।

Truth of Bengal: তীব্র দূষণের কোপে দীপাবলির সকাল, বিষাক্ত বাতাসে ঢেকে গেল দিল্লি। উৎসবের সকালে দূষণের মাত্রা ‘খুব খারাপ’ (Very Poor) শ্রেণিতে পৌঁছে যাওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে জাতীয় রাজধানীতে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (CPCB)-এর তথ্য অনুযায়ী, বাজি পোড়ানোর পর ঘন ধোঁয়া ও মারাত্মক শব্দ দূষণের কারণে সকাল ৮টায় দিল্লির সামগ্রিক বায়ু গুণমান সূচক (AQI) রেকর্ড করা হয়েছে ৩৩৫। রাজধানীর প্রায় ৩৮টি মনিটরিং স্টেশনের মধ্যে অধিকাংশই ৩০০-র উপরে ‘খুব খারাপ’ শ্রেণিতে দূষণ রেকর্ড করেছে। এর মধ্যে আনন্দ বিহার (৪১৪) এবং ওয়াজিরপুর (৪০৭) ‘মারাত্মক’ (Severe) শ্রেণিতে পৌঁছে গিয়েছে। তবে, শ্রী অরবিন্দ মার্গ (১৬৫) এবং ডিটিইউ (১৯৮)—এই দুটি স্টেশন ‘মাঝারি’ (Moderate) শ্রেণিতে ছিল।

সিপিসিবি-র মাপকাঠি অনুযায়ী, বায়ু গুণমান সূচক (AQI) ০ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘ভালো’, ৫১ থেকে ১০০ ‘সন্তোষজনক’, ১০১ থেকে ২০০ ‘মাঝারি’, ২০১ থেকে ৩০০ ‘খারাপ’, ৩০১ থেকে ৪০০ ‘খুব খারাপ’ এবং ৪০১ থেকে ৫০০-এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘মারাত্মক’ বলে গণ্য করা হয়। পর্ষদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার ও বুধবার এই দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে ‘মারাত্মক’ শ্রেণিতে পৌঁছতে পারে। এই পরিস্থিতিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট দীপাবলিতে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে কেবল সবুজ বাজি (Green Crackers) বিক্রি ও ফাটানোর অনুমতি দিয়েছে। তবে এর জন্যও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে—দীপাবলির আগের দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এবং উৎসবের দিন রাত ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্তই সবুজ বাজি ব্যবহার করা যাবে। এর আগে বাজি তৈরি, বিক্রি ও ব্যবহারের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ছিল।

এদিকে, দূষণ পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (CAQM) রবিবার সন্ধ্যায় দিল্লি-এনসিআর জুড়ে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (GRAP)-এর স্টেজ I কার্যকর করেছে। ১৪ অক্টোবর থেকে ইতিমধ্যে স্টেজ I-এর পদক্ষেপগুলি বলবৎ ছিল। ইন্ডিয়ান মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (IMD) এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেটিওরোলজি (IITM)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী দূষণ আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় শনিবার GRAP-এর সাব-কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

GRAP-এর স্টেজ II অনুযায়ী, ধূলিকণা নিয়ন্ত্রণের জন্য চিহ্নিত রাস্তাগুলিতে বিশেষত পিক ট্র্যাফিকের আগে প্রতিদিন যান্ত্রিক বা ভ্যাকুয়াম সুইপিং এবং জল ছিটানোর কাজ করা হবে। নির্মাণ ও ভাঙার সাইটগুলিতে ধুলো নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কঠোরভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পরিদর্শনের মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।

পরিষ্কার পরিবহণকে উৎসাহিত করতে এই পর্যায়ে সিএনজি এবং ইলেকট্রিক বাসের সংখ্যা বাড়ানো, মেট্রো পরিষেবার ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি এবং অফ-পিক সময়ে ভ্রমণে উৎসাহিত করতে ভাড়ার হারের পার্থক্য রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবাসিক কল্যাণ সংস্থাগুলিকে (RWA) শীতকালে বায়োমাস এবং কঠিন বর্জ্য খোলা স্থানে পোড়ানো আটকাতে গার্ড, মালী এবং স্যানিটেশন কর্মীদের জন্য ইলেকট্রিক হিটারের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। আন্তঃরাজ্য বাসগুলির মধ্যে কেবল সিএনজি, ইভি বা বিএস-VI ডিজেল চালিত বাসগুলিকেই দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে অল-ইন্ডিয়া পারমিটের অধীনে পরিচালিত ট্যুরিস্ট বাসগুলি এর বাইরে থাকবে। GRAP-এ বায়ু গুণমানকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে: স্টেজ I (খারাপ, AQI ২০১-৩০০), স্টেজ II (খুব খারাপ, AQI ৩০১-৪০০), স্টেজ III (মারাত্মক, AQI ৪০১-৪৫০) এবং স্টেজ IV (মারাত্মক প্লাস, AQI ৪৫০-এর উপরে)।

এই আবহে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা দীপাবলির দিন কেবল সবুজ বাজি ব্যবহার করে দূষণ থেকে শহরকে রক্ষা করার জন্য দিল্লি-বাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। এক বার্তায় তিনি প্রথাগত উপায়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে, রঙ্গোলি তৈরি করে এবং মিষ্টি ভাগ করে উৎসব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আলোর উৎসব দীপাবলি যেন শান্তি ও সম্প্রীতির আবহে পালিত হয়।

Related Articles