দেশ

বদ্রীনাথধামে প্রণামী চুরি! সিসিটিভিতে ধরা পড়ল বরখাস্ত কর্মীর কীর্তি

বদ্রীনাথ থানার স্টেশন হাউস অফিসার মহাদেব ইউনিয়াল জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত যে ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়েছে, তাতে অন্তত চারবার প্রমোদকে নগদ টাকা সরাতে দেখা গিয়েছে

Truth of Bengal: অযোধ্যার রামমন্দিরের পর এবার উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথধামে প্রণামী চুরির তদন্তেও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠল সিসিটিভি ফুটেজ। পুলিশের দাবি, গ্রেফতার হওয়া বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির বরখাস্ত কর্মী প্রমোদ নাটিওয়ালকে অন্তত চার দিনের ভিডিয়োয় প্রণামীর টাকা লুকিয়ে পকেট ও মোবাইলের খাপে রাখতে দেখা গিয়েছে। চামোলি পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রমোদ ছাড়াও আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংবাদসংস্থা এএনআইয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি বুধবার প্রণামী চুরির ঘটনা নিয়ে ১৮ পাতার একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত রিপোর্ট সিটের হাতে তুলে দিয়েছে। সেই রিপোর্টেও সিসিটিভি ফুটেজের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি।

বদ্রীনাথ থানার স্টেশন হাউস অফিসার মহাদেব ইউনিয়াল জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত যে ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়েছে, তাতে অন্তত চারবার প্রমোদকে নগদ টাকা সরাতে দেখা গিয়েছে। ২২ জুন, ২৫ জুন, ২৯ জুন এবং ২ জুলাইয়ের প্রণামী গণনার ভিডিয়ো খতিয়ে দেখেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, চারটি দিনেই অভিযুক্তের সন্দেহজনক কার্যকলাপ ধরা পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মন্দিরের সিসিটিভি ব্যবস্থা উন্নত করার আগে ও পরে ব্যবহৃত পুরনো এবং নতুন—দুই ধরনের নেটওয়ার্ক ভিডিয়ো রেকর্ডারের ফুটেজই পরীক্ষা করা হচ্ছে। চলতি তীর্থযাত্রার মরসুমে মন্দির খোলার পর থেকে মোট ৩৪ দফায় প্রণামীর টাকা গণনা করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, ২৫ জুন ও ২৯ জুনের ফুটেজে প্রমোদ ছাড়াও আরও কয়েকজনকে টাকা সরাতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই একাধিক সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করেছে সিট। পাশাপাশি মন্দির কমিটির কাছে গত তিন বছরের ব্যাঙ্ক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগে অযোধ্যার রামমন্দিরেও সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে প্রণামী চুরির অভিযোগে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি ছিল, তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে সরাসরি চুরিতে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তবে বদ্রীনাথের ঘটনায় তদন্ত এখনও চলছে। অভিযুক্ত এবং চিহ্নিত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচার ও তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।