কলকাতা

দফতর-তহবিলে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা, আদালতের রায় বেরোতেই বিচারককে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ মমতার আইনজীবীদের

আদালতের রায় আসতেই বিচারককে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ! মমতার আইনজীবীদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ বিচারপতির

Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হারের পর এবার আইনি লড়াইয়েও বিরাট ধাক্কা খেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের দফতর ও দলীয় তহবিল নিয়ে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করল আলিপুর আদালত। আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ের ফলে তৃণমূল ভবনের মূল পার্টি অফিস এবং দলীয় তহবিলের রাশ এখন সম্পূর্ণভাবে চলে গেল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘ঋত-তৃণমূল’-এর নিয়ন্ত্রণে। আর এই রায়কে কেন্দ্র করেই এখন চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে আদালত চত্বরে। রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আলিপুর আদালতের বিচারকের উদ্দেশে অসংসদীয় ভাষায় গালিগালাজ ও কুমন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে মমতার আইনজীবীদের বিরুদ্ধে। বিচারকের দাবি, রায় পছন্দ না হওয়ায় ওনার ওপর চড়াও হওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবিতে জেলা জজের দ্বারস্থ হয়েছেন স্বয়ং বিচারক।

ভোটের পর তছনছ তৃণমূল পরিবার

২০২৬ সালের নির্বাচনী ধাক্কার পর তৃণমূল পরিবার কার্যত ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির যখন ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু ও অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে জেরবার, ঠিক তখনই উল্টোদিকে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘আসল’ তৃণমূলের শক্তি হু হু করে বাড়ছে। মমতাকে একা ফেলে একের পর এক হেভিওয়েট নেতা ভিড়ছেন ঋতব্রত শিবিরে। এই পরিস্থিতিতে দলের সাধারণ কর্মীরা চূড়ান্ত বিভ্রান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত আলিপুর আদালতের দ্বারস্থ হন। মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলটাই আসলে ‘আসল তৃণমূল’। অরূপ রায় যে দলের সর্বভারতীয় চেয়ারপার্সন, সেটাই এখন দলের মূল আইনি পরিচয়।

“মগের মুলুক চলবে না”, হুঙ্কার ঋতব্রতর

আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে গত ১২ জুলাই এক হাইভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠক করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘‘আমরা যে দাবি করেছিলাম, আদালত তাকেই সিলমোহর দিয়েছে। নিয়মনীতি মেনে পার্টির ফান্ড ও নাম, এসব আমরা ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। যাঁরা পার্টি অফিসগুলোয় জোর করে ঢুকতে যাবেন, আমরা তাঁদের বিরুদ্ধে আইনত পদক্ষেপ করব। মগের মুলুক চলবে না।”

পাল্টা লড়াইয়ের ডাক কালীঘাটের

অন্যদিকে, এই রায়কে মানতে নারাজ মমতা শিবির। ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর পক্ষে আইনজীবী অর্ককুমার নাগ জানান, আদালতের একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশকে সামনে রেখে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি পাল্টা দাবি করেন, ঋতব্রতরা নিজেরাই হেঁটে গিয়ে তৃণমূল ভবন দখল করেছে। কর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের মূল চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর নেতৃত্বেই দলের যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালিত হবে। তবে আদালতের এই রায় এবং বিচারককে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক যে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন ঝড়ের জন্ম দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Related Articles