নন্দীগ্রামে রথযাত্রায় হাড়হিম করা কাণ্ড! মুহূর্তে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলেন ২৫ জন, এলাকায় ত্রাহি ত্রাহি রব!
আনন্দের মুহূর্ত নিমেষেই বদলে গেল বিষাদে! নন্দীগ্রামে রথের চূড়ায় বিদ্যুতের তার ঠেকে ছটফট করলেন ২৫ জন পুণ্যার্থী!
Truth of Bengal: রথযাত্রার আনন্দ ও উল্লাসের মুহূর্ত মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বদলে গেল চরম আতঙ্ক আর তীব্র বিষাদে। রথের পুণ্য তিথিতেই পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে ঘটে গেল এক অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। চলন্ত রথের চূড়া আচমকাই রাস্তার ওপর দিয়ে যাওয়া উচ্চ ক্ষমতার বিদ্যুতের তারে ঠেকে যেতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলেন অন্তত ২৫ জন পুণ্যার্থী। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে নন্দীগ্রামের তেখালি এলাকায়। এই আকস্মিক বিপর্যয়ের পর জখমদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় গোটা নন্দীগ্রাম জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
যেভাবে উৎসবের আঙিনায় নেমে এল অন্ধকার
প্রতি বছরের মতো এবারও গতকাল বৃহস্পতিবার সাড়ম্বরে রথযাত্রা পালিত হচ্ছিল নন্দীগ্রামের তেখালি এলাকায়। তেখালি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। সন্ধ্যায় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথ যখন অগণিত ভক্তের হাত ধরে পথ চলতে শুরু করে, তখন চারিদিকে ছিল উৎসবের কোলাহল। কিন্তু রথটি তেখালি বাজারের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই তার চূড়াটি উপর দিয়ে চলে যাওয়া বিদ্যুতের তারে স্পর্শ করে। যেহেতু রথের মূল কাঠামোটি লোহার তৈরি ছিল, তাই মুহূর্তের মধ্যে গোটা রথে বিদ্যুৎ সঞ্চারিত হয়।
রথ টানার রশিতে এবং কাঠামোর সংস্পর্শে থাকা পুণ্যার্থীরা একের পর এক ছিটকে পড়তে শুরু করেন। ঘটনার আকস্মিকতায় গোটা এলাকায় হুড়োহুড়ি এবং চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে মানুষ এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করে দেন।
হাসপাতালে ২৫ জন, তদন্তে পুলিশ
দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় মানুষ ও কমিটির সদস্যরা উদ্ধারকাজে হাত লাগান। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া জখমদের দ্রুত উদ্ধার করে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত হাসপাতালে এবং দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নন্দীগ্রাম থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া ২৫ জনের মধ্যে ১৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বাকি ১০ জনের অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর হওয়ায় তাঁদের এখনও হাসপাতালেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা চালানো হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দিনভর দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে লোহার তৈরি রথের কাঠামোটি সম্পূর্ণ ভিজে ছিল। এর ওপর বিদ্যুতের তারেও জল লেগে থাকায় পরিবাহিতা আরও বেড়ে যায়। আর ঠিক সেই কারণেই রথের চূড়া তারে স্পর্শ করতেই এই ভয়াবহ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনাটি ঘটে। নন্দীগ্রাম থানার আইসি অজয় মিশ্র জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত শুরু করেছে এবং মেলা ও রথ কমিটিগুলির সুরক্ষা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।






