ইতিহাস গড়ল ভারত! ধোঁয়া নয়, জল উগড়ে ঘণ্টায় ১২০ কিমি বেগে ছুটবে মোদির হাইড্রোজেন ট্রেন!
বিশ্বের এলিট ক্লাবে ভারত! হরিয়ানায় প্রথমবার ট্র্যাকে নামল হাইড্রোজেন ট্রেন, উদ্বোধনে কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
Truth of Bengal: ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এক স্বর্ণালি অধ্যায়ের সূচনা হল। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে এক লাফে অনেকটাই এগিয়ে গেল ভারত। বৃহস্পতিবার দেশের প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেনের গ্র্যান্ড উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রাথমিকভাবে হরিয়ানার ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ জিন্দ-সোনিপত রুটে ট্র্যাকে নামানো হয়েছে এই অত্যাধুনিক ও সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত ইকো-ফ্রেন্ডলি ট্রেনটি। ভারতের বুকে প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের এই চাকা ঘোরার ঘটনাকে ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণের পথে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বের হাতেগোনা এলিট গ্রুপে জায়গা করে নিল ভারত
এই বিশেষ ট্রেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লেখেন, “এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের মাধ্যমে হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেন রয়েছে এমন বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশের এলিট গ্রুপে নিজেদের জায়গা করে নিল ভারত। রেলের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দেশকে এক নতুন দিগন্তে এগিয়ে নিয়ে যাবে।” সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ট্রেনটি মূলত আত্মনির্ভর ভারতের এক অনন্য নিদর্শন।
Prime Minister @narendramodi flags off India’s first Hydrogen train between Jind and Sonipat at Jind railway station#HydrogenTrain #भारत_की_पहली_हाइड्रोजन_ट्रेन @RailMinIndia
Watch: ⬇️ pic.twitter.com/j1lJCliqRs
— PIB India (@PIB_India) July 17, 2026
কী এই হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তি?
রেল বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সাধারণ ডিজেল বা বৈদ্যুতিক ট্রেনের মতো এই ট্রেনে কোনও ক্ষতিকারক ধোঁয়া নির্গত হবে না। এই প্রযুক্তিতে ট্রেন চালানোর জন্য মূলত হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল (Hydrogen Fuel Cell) ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এর ফলে ট্রেনের সাইলেন্সর দিয়ে ধোঁয়ার বদলে উপজাত হিসেবে নির্গত হবে শুধুই জলীয় বাষ্প ও জল। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর এবং এটি প্রচলিত ডিজেলচালিত ট্রেনের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও শব্দহীন।
এছাড়াও এই বিশেষ ট্রেনের জন্য হাইড্রোজেন গ্যাস নিরাপদভাবে সংরক্ষণ এবং দ্রুত রিফুয়েলিং বা গ্যাস ভরার জন্য আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ট্রেনের গতিবেগ এবং যাত্রী সুরক্ষার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভারত সরকারের এই গ্রিন এনার্জি উদ্যোগ আগামী দিনে দেশের কার্বন নির্গমনের পরিমাণ শূন্যতে নামিয়ে আনতে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।






