কলকাতারাজ্যের খবর

গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’ ঘোষণা করার আর্জি রাজ্যের, কেন্দ্রের কাছে আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার আবেদন

চলতি মাসেই রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিবের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি জানান

Truth of Bengal: গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। একইসঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবকে আন্তর্জাতিক মানে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তারও আবেদন করা হয়েছে। চলতি মাসেই রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিবের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি জানান।

সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, গঙ্গাসাগর মেলা দেশের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ, যেখানে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী, সাধু-সন্ন্যাসী ও দর্শনার্থী অংশ নেন। ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, জীবন্ত সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার এবং শতাব্দীপ্রাচীন তীর্থযাত্রার এক অনন্য মিলনক্ষেত্র হিসেবে গঙ্গাসাগর মেলার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।চিঠিতে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই ঐতিহ্যবাহী মেলাকে জাতীয় মর্যাদা প্রদান করলে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সেই সঙ্গে কেন্দ্রের সক্রিয় সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব কামনা করে প্রস্তাবটি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারও একাধিকবার গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে কেন্দ্রের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছিল। তবে সে সময় বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি অভিযোগ তুলেছিল, রাজ্য সরকার গঙ্গাসাগর মেলাকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছে।প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপে, হুগলি নদী ও বঙ্গোপসাগরের সঙ্গমস্থলে এই মেলার আয়োজন হয়। মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী পবিত্র স্নান সেরে কপিল মুনি আশ্রমে পুজো দেন। একসময় পুরীর শঙ্করাচার্য স্বামী নিশ্চলানন্দ সরস্বতী মন্তব্য করেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে তবেই গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’র মর্যাদা দেওয়া হবে।

Related Articles