সাবধান! আপনার কণ্ঠস্বর নকল করছে ‘ফ্রড-জিবিটি’, এআই-এর হাত ধরে ভয়ংকর হচ্ছে সাইবার জালিয়াতরা
তদন্তে উঠে এসেছে যে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়
Truth of Bengal: মুম্বইয়ের এক পাচারকারীকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই) গ্রেপ্তার করার পর দেশজুড়ে চলা ভুয়ো চাকরির রমরমা চক্রের অন্ধকার দিকটি আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি চড়া বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ভারতীয় তরুণদের মায়ানমারে পাঠাতেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালিয়ে জোরপূর্বক বিভিন্ন অনলাইন প্রতারণা বা সাইবার অপরাধের কাজে লিপ্ত করা হতো।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং বর্তমানে মানব পাচার এবং সাইবার অপরাধ মিলেমিশে এক ভয়ংকর নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। ২০২৪ সালেই ভারতে ১ লক্ষ ২৩ হাজারেরও বেশি ডিজিটাল জালিয়াতির মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যার একটি বড় অংশই হলো এই ভুয়ো চাকরির ফাঁদ। বিশেষ করে মায়ানমার, কম্বোডিয়া বা লাওসের মতো দেশগুলোতে এই চক্রের জাল সবথেকে বেশি বিস্তৃত।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এই অপরাধকে আরও জটিল করে তুলেছে। সাইবার অপরাধীরা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মানুষকে ঠকাচ্ছে। সাইবল নামক সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট দীপেশ রঞ্জন জানান, অপরাধীরা এখন ওরম-জিবিটি বা ফ্রড-জিবিটি-র মতো এআই টুল ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে মানুষের কণ্ঠস্বর নকল করা (ডিপফেক), বিশ্বাসযোগ্য চ্যাটবট তৈরি করা এবং টার্গেট করা ব্যক্তির পছন্দ-অপছন্দ বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগত বার্তা পাঠানো হচ্ছে। ফলে শিক্ষিত তরুণরাও সহজেই এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন।
3 red flags that job posting is a scam – and how to verify safely https://t.co/GnNHMrF8Pz
— ZDNET (@ZDNET) March 30, 2026
এই চক্রের কাজ করার পদ্ধতিটি অনেকটা সুশৃঙ্খল অফিসের মতো। ওরিজার্ভ নামক এআই প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা অনুরাগ জৈন জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এই প্রতারণা চক্রগুলো এখন ‘ডিজিটাল জালিয়াতির কারখানা’ হিসেবে পরিচিত। পাচার হয়ে আসা ব্যক্তিদের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে তাঁদের একটি নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে বন্দি করে রাখা হয়। এরপর তাঁদের দিয়ে জোর করে রোমান্স স্ক্যাম, ক্রিপ্টোকারেন্সি জালিয়াতি বা বিনিয়োগের টোপ দেওয়ার মতো কাজ করানো হয়। নির্দেশ অমান্য করলে জোটে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার অপরাধ এখন একটি সংগঠিত শিল্পে পরিণত হয়েছে। এখানে অপরাধীদের নির্দিষ্ট বিভাগ রয়েছে— কেউ ম্যালওয়্যার তৈরি করে, কেউ তথ্য চুরি করে, আবার কেউ সেই টাকা পাচারের দায়িত্ব নেয়। এমনকি ‘ফ্রড অ্যাজ আ সার্ভিস’ মডেলে এখন অপরাধের প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার বা পরিকাঠামো ভাড়াতেও পাওয়া যাচ্ছে। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে অপরাধীরা যেভাবে নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করছে, তা এখন বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান সাইবার জালিয়াতি থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষের সতর্কতা এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারই এখন একমাত্র পথ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।






