রাজ্যের খবর

“ভোটের মতো এবার বাংলায় শিল্পেরও কাউন্টিং শুরু!” মেজিয়ায় দাঁড়িয়ে বাম-তৃণমূলকে তোপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বাম আমলে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়েছে

Truth of Bengal: বাংলার শিল্পক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের স্থবিরতার জন্য বাম ও তৃণমূল—দুই সরকারকেই দায়ী করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের নতুন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে গিয়ে তাঁর দাবি, রাজ্যে এবার ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের হাত ধরে শিল্পায়নের নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বাম আমলে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়েছে। কাজ হারিয়েছেন বহু শ্রমিক, বেড়েছে বেকারত্ব। কর্মসংস্থানের খোঁজে রাজ্যের যুবকদের ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হয়েছে। তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনেও শিল্পায়নের ছবিতে বিশেষ পরিবর্তন আসেনি বলে দাবি করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “এ তো সবে শুরু। ভোটের মতো এবার বাংলায় শিল্পেরও কাউন্টিং শুরু হবে।” তাঁর বক্তব্য, গত পাঁচ দশকে রাজ্যের অর্থনীতি ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে। শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষার নামে বাম আমলে ইউনিয়নের দাপট শিল্পক্ষেত্রে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। একের পর এক জুটমিল এবং কারখানার ঝাঁপ বন্ধ হওয়ায় বাংলা থেকে মুখ ফিরিয়েছিলেন বহু শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারী।

রাজ্যে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে নতুন সরকার একাধিক পদক্ষেপ করেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রথমেই গুণ্ডাদমন আইন এনেছি। কারখানার গেটে তালা ঝোলালে জেলে যেতে হবে। কারখানার সম্পত্তি ভাঙচুর করলে তিন গুণ ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। সিন্ডিকেট, কাটমানি এবং তোলাবাজি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে শুভেন্দু জানান, বাংলায় ব্যবসা শুরু করতে আর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে হয়রানির শিকার হতে হবে না। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিকাঠামোগত সহযোগিতার দায়িত্ব নেবে রাজ্য সরকার। তাঁর অভিযোগ, আগে উচ্চপর্যায় থেকে লাইসেন্স মঞ্জুর হলেও পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরে অর্থ দিতে হতো। নতুন সরকারের আমলে সেই ব্যবস্থার অবসান ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। শিল্পে সরকারি উৎসাহভাতা দেওয়ার পদ্ধতিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কোনও সংস্থা কত টাকা বিনিয়োগ করেছে, শুধু তার ভিত্তিতে নয়—রাজ্যের কতজন যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে, সেই হিসাবের উপরেই বার্ষিক ইনসেনটিভ নির্ধারণ করা হবে।

শুভেন্দুর দাবি, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাত্র ন’সপ্তাহের মধ্যেই রাজ্যে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ এসেছে। আরও কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তাঁর পরামর্শ, শ্যাম স্টিলের নতুন প্ল্যান্টের ভিতরের কর্মযজ্ঞ একবার ঘুরে দেখা উচিত। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে বলা হতো বাংলাকে গুজরাত হতে দেওয়া হবে না। আমি বলছি, বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি অটুট রেখেই শিল্পোন্নয়ন সম্ভব। সরকার পরিবর্তন না হলে রাজ্যের বহু বিনিয়োগ ওড়িশায় চলে যেত।” তাঁর অভিযোগ, আগের আমলে পুলিশি হয়রানি, সিন্ডিকেটরাজ এবং তোলাবাজির কারণে শিল্পপতিরা এ রাজ্যে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়েছিলেন। বর্তমানে সেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু স্পষ্ট করেন, শিল্পায়নের নামে কাউকে জোর করে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হবে না। জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে স্থানীয় মানুষ ও জমিদাতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উভয় পক্ষের সম্মতি এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করেই শিল্পপ্রকল্পের কাজ এগোবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

Related Articles