দুধ কিনতে গিয়েই গায়েব জাতীয় স্তরের শুটার! হাওড়া স্টেশনে ঘোরাঘুরির পরেই উধাও দময়ন্তী সেন
মোবাইল সঙ্গে, নেই কোনও পারিবারিক বিবাদ; তবু কেন হাওড়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে একা ঘুরছিল কিশোরী শুটার?
Truth of Bengal: ঘরের দোরগোড়ায় যখন জাতীয় দলে খেলার ট্রায়াল এবং এক বুক স্বপ্ন, ঠিক তখনই ঘটে গেল এক হাড়হিম করা রহস্যজনক ঘটনা। বাড়ি থেকে সামান্য কিছু জিনিস কিনতে বেরিয়ে আর ফিরল না ১৫ বছর বয়সী জাতীয় স্তরের রাইফেল শুটার দময়ন্তী সেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সে নিখোঁজ। পরিবারের তরফে সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় খোঁজখবর করার পরেও তার কোনো হদিশ মেলেনি। অবশেষে দময়ন্তীর পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে। অন্যদিকে, আদরের মেয়েকে ফিরে পেতে সোশাল মিডিয়াতেও সাহায্যের আর্জি জানিয়ে পোস্ট করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
দুধ কিনতে বেরিয়ে উধাও ১৫ বছরের কিশোরী
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ শুটার দময়ন্তী সেন মধ্য হাওড়ার ৩০/২, উমাচরণ ভট্টাচার্য লেনের বাসিন্দা। মাত্র ১৫ বছরের দময়ন্তী ছোট বয়স থেকেই রাইফেল শুটিংয়ে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিদিনের মতোই অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে দুধ ও অন্যান্য জরুরি কিছু জিনিস আনার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় সে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ার পরেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। চারদিকে হন্যে হয়ে খুঁজেও তার সন্ধান না পেয়ে অবশেষে হাওড়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন দময়ন্তীর অভিভাবকেরা।
হাওড়া স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজে রহস্যের ইঙ্গিত
তদন্তে নেমে পুলিশ ওই এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি হাওড়া স্টেশনের গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু করে। আর তাতেই পুলিশের হাতে আসে এক বড় ক্লু। স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায়, নিখোঁজ দময়ন্তী হাওড়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি করছে। বিশেষ করে ৪ এবং ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের মাঝখানের অংশে তাকে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ও পায়চারি করতে দেখা যায়। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরেই ফ্রেম থেকে উধাও হয়ে যায় সে। এরপর সে কোন ট্রেনে চেপে বসল নাকি অন্য কোথাও চলে গেল, তা জানতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তার আর কোনও খোঁজ মেলেনি।
কেন এই নিখোঁজ? ধন্দে পরিবার ও সতীর্থরা
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি জাতীয় দলে ট্রায়ালের সুযোগ পেয়েছিল প্রতিভাবান এই শুটার। ট্রায়াল ও প্রতিদিনের কঠোর অনুশীলনের জন্য নিয়মিত সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হতো দময়ন্তীকে। তাই গত বুধবার রাতেও সে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিল। নিখোঁজ হওয়ার সময় তার নিজস্ব মোবাইলটিও তার কাছেই ছিল। পরিবারের দাবি, বাড়িতে কোনো রকম অশান্তি বা মান-অভিমান কিছুই হয়নি। এত বড় সুযোগের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে কেন এবং কীভাবে সে এভাবে নিখোঁজ হয়ে গেল, তা ভেবেই দিশেহারা পরিবার। দময়ন্তীর সহপাঠী, খেলার সতীর্থ এবং উদ্বিগ্ন প্রতিবেশীরা এখন শুধু তার ঘরে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।





