মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও যন্তরমন্তরে অনড় সোনম! কেন্দ্র খোঁজ না নেওয়ায় তুলোধোনা করল দিল্লি হাইকোর্ট
১৯ দিন অনশন, ওজন কমে ৫৭ কেজি! সোনম ওয়াংচুককে নিয়ে কেন্দ্রের ভূমিকায় মারাত্মক চটল দিল্লি হাইকোর্ট
Truth of Bengal: দিল্লির যন্তরমন্তরের বুকে টানা ১৯ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন লাদাখের খ্যাতনামা সমাজকর্মী এবং বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুক। দিন যত গড়াচ্ছে, ততই তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ছে। চিকিৎসকদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, দ্রুত শরীরে খাবার না গেলে যেকোনও মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে সোনমের। অথচ এই চরম পরিস্থিতিতেও অনশনরত সোনমকে নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও হেলদোল নেই বলেই অভিযোগ। তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন, নিয়মিত সেই খোঁজটুকুও রাখা হচ্ছে না। কেন্দ্রের এই চরম উদাসীনতায় এবার তীব্র উষ্মাপ্রকাশ করল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দেশে প্রত্যেকটি নাগরিকের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। তাই সোনমের জীবন বাঁচাতে সরকারকে সবরকম প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে।
আদালতের দ্বারস্থ সমাজকর্মী, কেন্দ্রকে তোপ
সোনম ওয়াংচুকের এই দীর্ঘ অনশন ভাঙাতে এবং তাঁর জীবন রক্ষা করতে কেন্দ্র যাতে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে, সেই দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন সমাজকর্মী রাকেশকুমার সাইনি। আদালতে শুনানির সময় তিনি দাবি করেন, সোনম ওয়াংচুকের মতো একজন ব্যক্তিত্বের যদি অনশনরত অবস্থায় মৃত্যু হয়, তবে তা সমগ্র দেশ তথা বিশ্বের দরবারে ভারতের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক একটি বিষয় হবে। তাই অবিলম্বে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় সরকারকে নির্দেশ দেয়, “সোনম ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে যা যা করণীয়, তার সবটাই করতে হবে সরকারকে।”
সরকারের স্বীকারোক্তি ও আদালতের কড়া নির্দেশ
বৃহস্পতিবার শুনানির সময় কেন্দ্রের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে কার্যত স্বীকার করে নেন যে, সরকারের তরফ থেকে ওই সমাজকর্মীর স্বাস্থ্যের নিয়মিত ও সুনির্দিষ্ট খোঁজখবর রাখা হচ্ছে না। তিনি জানান, সোনমের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হলেও কখনো তা সরকারি ডাক্তাররা করছেন, আবার কখনো কোনো বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা করছেন। এই কথা শোনার পরই ক্ষোভপ্রকাশ করে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত নির্দেশ দেয়, “আমরা চাই সরকারি চিকিৎসকদের একটি নির্দিষ্ট দলই ওই ব্যক্তির নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুক। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে যদি সরকারকে কোনো পদক্ষেপ বা হস্তক্ষেপ করতে হয়, তবে দয়া করে তা দ্রুত করুন। প্রতিটি জীবনই অমূল্য।”
মেডিক্যাল বুলেটিনে উদ্বেগের ছবি
আজ, বৃহস্পতিবার সোনম ওয়াংচুকের অনশন ১৯ দিনে পা দিল। এদিন তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর একটি মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশ করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সেই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে সোনম মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। অনশন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তাঁর ওজন কমেছে প্রায় ৮.৯ কেজি। বর্তমানে তাঁর ওজন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৭ কেজিতে। গত ২৪ ঘণ্টাতেই তাঁর ওজন কমেছে ৪০০ গ্রাম। বর্তমানে তাঁর রক্তচাপ ১০৫/৭৬ মিমি এইচজি, রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০ মিগ্রা/ডেসিলিটার এবং অক্সিজেনের মাত্রা ৯৭ শতাংশ। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মানসিকভাবে সজাগ থাকলেও তাঁকে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। এখন দেখার, আদালতের এই কড়া বার্তার পর কেন্দ্র সোনমের অনশন ভাঙাতে কোনও সদর্থক ভূমিকা নেয় কি না।






