স্বাস্থ্য

রাতে উজ্জ্বল আলো বাড়ায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি — নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য

Truth Of Bengal: রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় ফোনের স্ক্রিনের আলো কিংবা ঘরের উজ্জ্বল লাইট বন্ধ করতে অনেকে ভুলে যান কিংবা গুরুত্বই দেন না। কিন্তু এই সাধারণ অভ্যাসই হৃদরোগের বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে — এমনই দাবি করেছে আন্তর্জাতিক একটি নতুন গবেষণা। গবেষণাটি জানিয়েছে, ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে রাতে আলোতে থাকার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ৫৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এই বিশ্লেষণ চালিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিনডার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী প্রায় ৮৯,০০০ মানুষের কবজিতে সেন্সর লাগিয়ে মোট ১৩ মিলিয়ন ঘণ্টারও বেশি আলোর সংস্পর্শের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় নয় বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করার পর দেখা যায়—যারা রাতে বেশি আলোতে থাকেন, তাঁদের মধ্যে হৃদরোগ বা কার্ডিওভাসকুলার রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।

কোন কোন ঝুঁকি কতটা বাড়ে? গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে আলোতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি — ৪৭% বৃদ্ধি। করোনারি আর্টারি ডিজিজ — ৩২% বৃদ্ধি। স্ট্রোকের ঝুঁকি — ২৮% বৃদ্ধি।

গবেষকরা জানান, এগুলি যে শুধুই একটি সহায়ক উপাদান নয়, বরং “নাইট লাইট এক্সপোজার নিজেই একটি স্বাধীন ঝুঁকি” — অর্থাৎ অন্যান্য কারণ ছাড়াও একা এটাই ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কেন এমন হয়? গবেষকেরা ব্যাখ্যা করছেন, রাতে আলো লাগলে শরীরের সার্কাডিয়ান ক্লক বা ঘুম-জাগরণের স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হয়। ফলে শরীরের হরমোন নিঃসরণ, বিপাক প্রক্রিয়া, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ—সবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রভাব জমতে জমতেই হৃদপিণ্ড দুর্বলতার দিকে ঠেলে দেয়।

কারা বেশি ঝুঁকিতে? নারীরা — গবেষণায় দেখা গেছে, রাতের আলোতে নারীদের হার্ট ফেইলিওরের আশঙ্কা পুরুষদের সমান হয়ে যায়, যা সাধারণত দেখা যায় না। তরুণরা — আশ্চর্যজনকভাবে তুলনামূলক কম বয়সীরাও (বিশেষত মহিলা) বেশি সংবেদনশীল।

গবেষক শন কেইনের মতে, নারীদের মধ্যে যে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে, তা একটি “অপ্রত্যাশিত ও উদ্বেগজনক ফলাফল”।

কী ভাবে কমানো যায় এই ঝুঁকি?

গবেষক দল কয়েকটি সহজ উপায় পরামর্শ দিয়েছেন—

১. ব্ল্যাকআউট কার্টেন ব্যবহার করুন, যাতে ঘরে বাইরে থেকে কোনও আলো না ঢোকে

২. শোয়ার অন্তত ৩০–৬০ মিনিট আগে মোবাইল, টিভি, ট্যাব স্ক্রিন বন্ধ করুন

৩. নাইটলাইটের বদলে অল্প উষ্ণ আলো ব্যবহার করুন

৪. ফোনে “Night Mode / Dark Mode” চালু রাখুন

৫. অপ্রয়োজনীয় বেডলাইট অভ্যাস বর্জন করুন

কেন এখনই সতর্ক হওয়া জরুরি? আমাদের আধুনিক জীবনে রাতের আলোর পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে — স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, LED লাইট, বিজ্ঞাপন বোর্ড, শহরের স্ট্রিটলাইট—সব মিলিয়ে শরীর যে গভীর অন্ধকারে বিশ্রাম নিত, তা আর পায় না। আর এই ছোট ক্ষতিগুলোই ধীরে ধীরে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

ওই গবেষণার প্রধান লেখক ড্যানিয়েল উইন্ড্রেড বলেন, “Busyness kills silently — বিশেষ করে যখন রাতের আলো আমাদের শরীরকে ঘুমাতে দেয় না।” অতএব, হৃদয় সুস্থ রাখতে ও দীর্ঘ জীবন পেতে—রাতের অন্ধকারকে আবার গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কারণ ঘুমের সময় আলো বন্ধ করার মতো ছোট সিদ্ধান্তও আপনার হৃদয়কে বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে।

Related Articles