স্বাস্থ্য

ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারে কাজ? সাবধান! নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনছেন না তো!

সাময়িক উপশমে ব্যথানাশক ওষুধ কাজে দিলেও নিয়মিত পেইনকিলার খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর

Truth of Bengal: অফিসে টানা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ, যার সিংহভাগই কাটে কম্পিউটারের সামনে টাইপ করে। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা, সংবাদমাধ্যম বা বিজ্ঞাপনী দপ্তরের মতো পেশায় ল্যাপটপ বা ডেস্কটপের ব্যবহার এখন অনিবার্য। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কিবোর্ড ও মাউস ব্যবহারের ফলে আঙুল, কব্জি, কনুই এমনকি কাঁধ ও বাহুর সংযোগস্থলেও অসহ্য যন্ত্রণা দেখা দিতে পারে। সাময়িক উপশমে ব্যথানাশক ওষুধ কাজে দিলেও নিয়মিত পেইনকিলার খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। চিকিৎসকদের মতে, আঙুলের স্নায়ুর ওপর ক্রমাগত চাপ পড়ার ফলেই এই ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়।

দীর্ঘক্ষণ টাইপ করার ফলে আঙুলের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু জরুরি নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। প্রথমত, একটানা আধ ঘণ্টার বেশি টাইপ করা উচিত নয়। প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর অন্তত ২ থেকে ৩ মিনিটের বিরতি নেওয়া জরুরি। এই বিরতি কেবল আঙুল নয়, বরং কোমর, ঘাড়, কাঁধ এবং চোখকেও প্রয়োজনীয় বিশ্রাম দেয়। দ্বিতীয়ত, হাতের নখ অতিরিক্ত বড় হলে টাইপ করার সময় কিবোর্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আঙুলে ব্যথা হতে পারে, তাই নিয়মিত নখ কেটে ফেলা শ্রেয়। কাজের সময় বসার ভঙ্গি বা চেয়ার-টেবিলের মাপ ঠিক না থাকলেও আঙুলের স্নায়ুতে চাপ পড়তে পারে। অনেকে টেবিলের বাইরে হাত ঝুলিয়ে টাইপ করেন, যা কব্জি ও আঙুলের ব্যথার অন্যতম কারণ। এছাড়া আঙুলের ব্যথার নেপথ্যে কার্পাল টানেল সিনড্রোম বা টেনিস এলবোর মতো গুরুতর সমস্যাও থাকতে পারে। তাই ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আঙুলের যন্ত্রণার একটি বিশেষ রূপ হলো ট্রিগার ফিঙ্গার বা স্টেনোসিং টেনোসাইনোভাইটিস। এই সমস্যায় আঙুল সোজা করতে বা ভাঁজ করতে প্রচণ্ড কষ্ট হয়, মনে হয় আঙুলটি আটকে গিয়েছে। সাধারণত হাতের অনামিকায় এই প্রভাব বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে ফিজ়িওথেরাপি বা বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।