স্বাস্থ্য

ঝুঁকি নেই তবুও হার্ট অ্যাটাক: ৮০ শতাংশই ছিলেন না ‘হাই রিস্ক’ তালিকায়

ভারতীয়দের হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ে এক উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এনেছে

Truth Of Bengal: রাজধানী দিল্লির জিবি পন্ত হাসপাতালের এক সাম্প্রতিক গবেষণা ভারতীয়দের হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ে এক উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এনেছে। ডক্টর মোহিত দয়াল গুপ্তের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, বর্তমানে প্রচলিত বৈশ্বিক হার্ট রিস্ক ক্যালকুলেটর বা পশ্চিমা চিকিৎসা মডেলগুলো অধিকাংশ ভারতীয় রোগীর হৃদরোগের ঝুঁকি শনাক্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রায় ৫,০০০ ভারতীয় রোগীর ওপর চালানো এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রথমবার হার্ট অ্যাটাক হওয়া রোগীদের মধ্যে ৮০ শতাংশই আগে থেকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন না।

চিকিৎসকদের মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর শারীরিক গঠন ও জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই মডেলগুলো ভারতের প্রেক্ষাপটে সঠিক ফল দিচ্ছে না। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের ‘নিম্ন’ বা ‘মাঝারি’ ঝুঁকিপূর্ণ বিভাগে রাখা হলেও বাস্তবে তাঁদের শরীরে লুকিয়ে ছিল বড় ধরনের বিপদ। এই মডেলগুলো ব্যবহার করেই মূলত চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন কার চিকিৎসা প্রয়োজন, কিন্তু ভারতীয় রোগীদের ক্ষেত্রে এই ফলাফল প্রায়ই বিভ্রান্তিকর এবং পরস্পরবিরোধী হচ্ছে।

গবেষক দলের প্রধান ডক্টর গুপ্ত জানিয়েছেন, ভারতীয় রোগীদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য, ঝুঁকির ধরণ এবং জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ আলাদা। পশ্চিমা মডেলগুলো কেবল ১১ থেকে ২০ শতাংশ রোগীকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করতে পেরেছিল, যদিও পরবর্তী সময়ে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি রোগীই হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন। কোনো রকম আগাম সতর্কতা বা রেড ফ্ল্যাগ ছাড়াই এই আকস্মিক অসুস্থতা এখন ভারতে এক স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, ভারতীয়দের জন্য আলাদা এবং নির্দিষ্ট রিস্ক প্রোফাইল তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

Related Articles